• তারকেশ্বরে জল ঢালতেও টাকা! ক্ষোভ ভক্তদের
    এই সময় | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, আরামবাগ: শ্রাবণী মেলাকে ঘিরে বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। এ বার শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে তারকেশ্বর মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢালতে আসা পুণ্যার্থীদের বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠল। এ নিয়ে সরব হয়েছেন বহু শিবভক্ত। কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময়) পোস্ট করে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। তাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে শাসকদলের নেতাদের।

    এ বার শ্রাবণী মেলাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেনি নতুন সরকার। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। শ্রাবণী মেলা শুরু হওয়ার আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, ভক্তদের কাছ থেকে কোনও রকম ট্যাক্স কিংবা চাঁদা নেওয়া যাবে না। পুণ্যার্থীদের যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয়, তার ব্যবস্থা করবে সরকার। তার পরেও পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে অভিযোগ ওঠায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    অভিযোগ, সাধারণ ভক্তদের যেখানে শিবের মাথায় জল ঢালার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সেখানে টাকা খরচ করলেই কাউকে দাঁড়াতেই হচ্ছে না। এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য ২০০-৫০০ টাকার কুপন (হলুদ রঙের) কাটতে হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে? এ ভাবে ভক্তদের কাছ থেকে টাকা তোলার অনুমতি কে বা কারা দিয়েছে? তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

    একটি ভাইরাল ভিডিয়োতে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময়) এক ভক্তকে বলতে শোনা যাচ্ছে, 'বিগত পাঁচ বছরে কোনও টাকা-পয়সা নেওয়া হতো না। এ বার নতুন সরকারের নতুন চাঁদা।' আর একটি ভিডিয়োতে আবার দেখা যাচ্ছে, একদল মহিলা পুণ্যার্থী মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে এ নিয়ে সরাসরি বিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন।

    তারকেশ্বর মন্দিরের মোহন্ত সুরেশ্বর আশ্রম দণ্ডীস্বামী মহারাজ অবশ্য জানিয়েছেন, এটা প্রতি বছরই নেওয়া হয়। বিশেষ লাইনে দাঁড়ানোর জন্য আলাদা টিকিট কাটতে হয়। তিনি বলেন, 'বাবার মন্দিরের খরচ-খরচা কোথা থেকে আসবে? মুখ্যমন্ত্রী শ্রাবণী মেলার জন্য ১৫ কোটি টাকা খরচ করেছেন। কিন্তু মন্দির কর্তৃপক্ষ তো কোনও টাকা পায়নি। তা হলে আমরা এই মন্দির কিংবা এস্টেট চালাব কী করে? আগের সরকার বার্ষিক বৃত্তি (বিশেষ অনুদান) বন্ধ করে রেখেছিল। নতুন সরকারও দেয়নি।' তাঁর দাবি, আলাদা লাইনে দাঁড়ানোর জন্য ভক্তদের কাছ থেকে টাকা নেওয়াটা নতুন কিছু নয়। দেওঘর, কামাখ্যা, তারাপীঠ, সমস্ত বড় বড় মন্দিরে এই নিয়ম চালু রয়েছে।

    বিজেপির আরামবাগ জেলা সাংগঠনিক সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, 'এর সঙ্গে আমাদের দলের কোনও কর্মী কিংবা প্রশাসনের লোকেরা যুক্ত নয়। এটা পুরোটাই মন্দির কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। যাঁরা সরকারকে দোষারোপ করছেন, তাঁরা হয়তো সঠিত তথ্যটা জানেন না।'

  • Link to this news (এই সময়)