প্রশান্ত ঘোষ
রান্না করতে গিয়ে হঠাৎ গ্যাস শেষ, বুকিং করেও সিলিন্ডারের অপেক্ষা — এই চেনা ছবির দিন এ বার ফুরোতে চলেছে সল্টলেকে। শুধু রান্নাঘরই নয়, সিএনজিচালিত গাড়ির চালকদেরও মিলতে চলেছে বড় স্বস্তি। আগামী দু'মাসের মধ্যেই সল্টলেকে চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার সিএনজি স্টেশন। এই প্রথম। ইন্দিরা ভবন ও সেচ ভবনের মাঝে এফএফ ব্লকে এই গ্যাস স্টেশন তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে।
শুধু গাড়ি নয়, আগামী দু'বছরের মধ্যে সেক্টর ১, ২ ও ৩-এ যে প্রায় ২৬ হাজার পরিবারের বাস, তাদের সকলের হেঁশেলে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস (পিএনজি) পৌঁছে যাবে বলে আশা তৈরি হয়েছে। বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিসিএল)–এর দাবি, সল্টলেককে অগ্রাধিকার দিয়েই এগোচ্ছে এই প্রকল্প, যা ভবিষ্যতে শহরের জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে।
বিজিসিএল সূত্রের খবর, জ্যোতি বসুর বাড়ি বলে পরিচিত ইন্দিরা ভবন (বর্তমানে নজরুল ভবন) সংলগ্ন এলাকায় নতুন সিএনজি স্টেশন চালু হবে দুর্গাপুজোর আগেই। এই স্টেশন চালু হলে সল্টলেক ও আশপাশের এলাকার সিএনজিচালিত অটো, ট্যাক্সি, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাসের জ্বালানি সংগ্রহ অনেকটাই সহজ হবে। বর্তমানে রাজারহাট-নিউ টাউন, কসবা, গড়িয়া, সিঁথির মোড়, কাঁকুড়গাছি ও কল্যাণীর পাম্পে ২৪ ঘণ্টা সিএনজি মিলছে।
একই সঙ্গে সল্টলেকে শুরু হয়েছে পাইপলাইনের মাধ্যমে গৃহস্থের ঘরে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিধাননগর পুরনিগমের ২৯ থেকে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড, অর্থাৎ সেক্টর ১, ২ ও ৩-এর বাসিন্দাদের ধাপে ধাপে পিএনজি সংযোগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইন বসানোর কাজও এগিয়েছে। দু'বছরের মধ্যে অধিকাংশ পরিবার এই পরিষেবার আওতায় চলে আসবে বলে আশা সংস্থার।
বিজিসিএলের সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায় বলছেন, 'আগামী দেড় থেকে দু'বছরের মধ্যে সল্টলেকের প্রতিটি বাড়িতে পিএনজি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রাজারহাট, বারাসত, মধ্যমগ্রাম ও রাজপুর-সোনারপুর এলাকায় মোট পাঁচ লক্ষ বাড়িতে পিএনজি সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।'
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু বাধাও রয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, কলকাতা এয়ারপোর্ট অথরিটির অনুমতি না মেলায় বিমানবন্দরের এক নম্বর গেট সংলগ্ন প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় এখনও পাইপলাইন বসানো সম্ভব হয়নি। অনুমতি মিললেই মূল পাইপলাইন সম্পূর্ণ হবে এবং সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন হবে বলে সংস্থার দাবি। নদিয়ার কল্যাণীতে ইতিমধ্যেই পিএনজি পরিষেবা সফল ভাবে চালু হয়েছে। সেখানে শতাধিক পরিবার নিয়মিত পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহার করছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সল্টলেকে দ্রুত পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থা।