• ধরা পড়া ডাকাতদের সূত্র ধরেই কি মিনারের বাড়িতে ২৮ কোটি টাকার হদিস পেল পুলিশ?
    এই সময় | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ঋতভাস চট্টোপাধ্যায়

    বীরভূমের মহম্মদবাজারে সদ্য ধরা পড়া একটি ডাকাত দলের সূত্র ধরেই মিনার মণ্ডলের বাড়িতে থাকা ২৮ কোটি টাকার হদিস পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের একটি সূত্রে তেমনই দাবি করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি জেলা পুলিশের কর্তারা।

    পুলিশ সূত্রে খবর, গত মঙ্গলবারই সাত জনের ডাকাত দলকে গ্রেপ্তার করেছিল মহম্মদবাজার থানা। তাদের জেরা করেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনারের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ টাকা ও সোনা মজুত রয়েছে। মিনারের বাড়িতেই ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল ওই ডাকাতদের। তাদের কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়ার পরেই মিনারের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ।

    ডাকাত দলের ধরা পড়া সাত জনকে বুধবার সিউড়ি আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তাঁদের ২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। সিউড়ি আদালতের আইনজীবী সুব্রত দে-ও বলেন, ‘ডাকাতির জন্য জড়ো হওয়ায় মহম্মদবাজার থানার পুলিশ বেশ কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারা মহম্মদবাজারের একটি চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিল। সেই সময়ে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও তাদের বিরুদ্ধে আগে কখনও অপরাধের অভিযোগ ওঠেনি।

    যদিও যে সাত জন গ্রেপ্তার হন, তাঁরা আদৌ কোনও ডাকাত দলের সদস্য কি না, তা নিয়ে তদন্তকারীদের একাংশের মনেই যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। তার বড় কারণ হলো, তাঁদের অতীত অপরাধের রেকর্ড মেলেনি। তদন্তকারীদের সেই অংশ মনে করছেন, তাঁরা সম্ভবত কোনও ডাকাত দলের সদস্য নন। তাঁরা ডাকাত সেজে মহম্মদবাজারে গিয়েছিলেন। তাঁদের হাত দিয়েই বাড়িতে থাকা টাকা অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন মিনার। কিন্তু ওই সাত জন ধরা পড়ে যাওয়ায় তাঁর সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

    প্রসঙ্গত, মিনারের বাড়িতে আচমকা পুলিশি অভিযান নিয়ে বুধবারই জেলা পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ ভুন্দেশ বলেছিলেন, ‘বীরভূম জেলা পুলিশের একটা টিম ইনফরমেশন পায়, মহম্মদবাজারের একটি জায়গায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং সোনা মজুত করে রাখা আছে। একটি সিন্ডিকেট গ্রুপ, যার মাথা টুলু মণ্ডল, সেই গ্রুপের এক সদস্যের কাছে ওই টাকা আর সোনা রাখা আছে। এর পরেই পুলিশ সার্চ অপারেশন শুরু করে। তাতেই পাওয়া যায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনার বার। মিনার মণ্ডল পুলিশকে জানান, উনি টুলু মণ্ডলের সঙ্গে সিন্ডিকেট চালাতেন। সেই সিন্ডিকেটের টাকাই বাড়িতে মজুত রয়েছে।’

    বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা নাগাদ মিনারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ আর সোনা মিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি মিলেছে। সকাল থেকেই মহম্মদবাজারের ডেউচায় মিনারের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আরও জওয়ান মোতায়েন করা শুরু হয়। বিশাল বাহিনী ঘিরে ফেলে বাড়ি সংলগ্ন গোটা এলাকা। রাতে মোতায়েন করা হয় পুলিশের বিশাল বাহিনীও। এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়েই মিনারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা বের করে মহম্মদবাজার থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) গাইকোয়াড নীলেশ শ্রীকান্ত বলেন, ‘বাড়িটি সিল করা হয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)