একতলা, দোতলার দু’টো ঘরে ঠাসা আলমারি৷ আর সেই আলমারিতে জামাকাপড় নেই…রয়েছে টাকাই-টাকা৷ বীরভূমে ১৫ কেজি সোনা সাড়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধারে উঠে আসছে একের পর এক তথ্য৷ তবে সবার প্রথমে যে নামটা সামনে এসেছে তা হল টুলু মণ্ডলের৷ টুলু মণ্ডল ওরফে শেখ নাজিমুদ্দিন৷ বীরভূমের অত্যন্ত পরিচিত পাথর ব্যবসায়ী৷ যাঁর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে এত টাকা, সোনা৷ তবে এই প্রথম নয়, টুলু মণ্ডলের নাম এর আগেও জড়িয়েছে বিভিন্ন ঘটনায়৷ পুলিশের দাবি, টুলু মণ্ডলের কথিত র্যাকেটের টাকা মিনার মণ্ডলের বাড়িতে রাখা হয়েছিল বলেই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
দীর্ঘদিন ধরে টুলু মণ্ডলের নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেট চলছিল বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি টুলু মণ্ডলকেও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে চাইছে বীরভূম জেলা পুলিশ।
সূত্রের খবর, টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে নিউটাউনে ৫ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। ২০২২ সালে খুনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় এক মাস জেল হেফাজতে ছিলেন টুলু মণ্ডল। স্ত্রী ও মেয়ের নামে একাধিক কোম্পানি খোলার অভিযোগও ওঠে। এই নিয়ে তদন্তে নামে ইডি। পুলিশ সূত্রে খবর, টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ৬-৭টি মামলা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে বীরভূমজুড়ে চলা সিন্ডিকেট রাজের খবর পেয়েই তদন্তে নামে পুলিশ।
বীরভূমের মহম্মদ বাজার থানার সোঁতশালের মোড়ল পাড়ায় বসতবাড়ি টুলু মণ্ডলের। তাঁর উত্থান একেবারে সিনেমার মতো। দুই ভাইয়ের মধ্যে টুলু মণ্ডল ওরফে নাজিমুদ্দিন বছর দশেক আগে লরিতে পাথর সরবরাহ করতেন। এরপর শেয়ারে একটি ডাম্পার কিনে পাথর সরবরাহ করতে শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০১৪-১৫ সালের পরের দিকে অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলয়ে পৌঁছন টুলু৷ ধীরে-ধীরে তিনি তৃণমূলের সংস্পর্শে চলে যান। সম্পর্ক বাড়ে অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তারক্ষী সায়গল হোসেনের সঙ্গে।
এলাকায় কান পাতলে শোনা যায়, অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গেও ভাল সম্পর্ক ছিল টুলু মণ্ডলের। আর তার ফলেই টুলু মণ্ডলের প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে। কয়েক বছরের মধ্যে জেলার পাথর খাদানে ডিসিআর (ডেইলি কালেকশন রেজিস্টারের) কাজ শুরু করেন টুলু৷ সেখানেও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে৷ একের পর এক সরকারি তোলা আদায়ের গেট টুলু মণ্ডলের দখলে চলে আসে। যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়। সেখান থেকেই পাথর শিল্পাঞ্চলের মসিহা হয়ে ওঠেন টুলু মণ্ডল।
স্থানীয়দের দাবি, বিয়ের পরে টুলু মণ্ডলের ব্যবসায় আরও সমৃদ্ধি ঘটে। এক আদিবাসী মহিলাকে বিয়ে করেন টুলু মণ্ডল। তারপর তাঁর জমির উপর শুরু করেন পাথর খাদান। ধীরে-ধীরে তাঁর এই ব্যবসা ফুলে-ফেঁপে ওঠে। বর্তমানে জেলার একাধিক পাথর খাদানের মালিক টুলু মণ্ডল।
টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে বেআইনি পাথর খাদান চালানোর অভিযোগ উঠেছিল৷ গরু পাচার মামলাতেও নাম জড়িয়েছিল টুলুর৷ ২০২২ সালে তাঁর বাড়ি-অফিসে হানা দিয়েছিল ইডি৷ ২০২৪ সালে চর্চায় এসেছিল তাঁর মেয়ের বিয়েও৷ অভিযোগ, মেয়ের বিয়েছে ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছিল টুলু৷ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আরবাজ খান, জারিন খান, আফতাব শিবদাসানি, আসরানির মতো অভিনেতারা৷টলিউডের অঙ্কুশ হাজরা, দর্শনা বণিকেরা৷ বর্তমানে সেই টুলু মণ্ডলই পলাতক। গ্রেফতার হয়েছেন মিনার।