কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! ৭ ডাকাতকে পাকড়াও করেই মিনার মণ্ডলের বিপুল সোনা-নগদের খোঁজ..যা বলছে পুলিশ
News18 বাংলা | ৩০ জুলাই ২০২৬
এমন ঘটনা ঘটার পরেই মনে হয় প্রবাদ লেখা হয়েছিল ‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’৷ ডাকাতির চেষ্টা রুখতে গিয়ে পুলিশ সেই ডাকাতদের কাছেই খবর পেল আরও বড় এক ‘অপরাধের’৷ বীরভূমের ডেউচায় অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি নগদ টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা৷ কী ভাবে খোঁজ মিলল এই বিপুল ধনভাণ্ডারের? সেটাই আলাদা এক রোমহর্ষক কাহিনি৷
২৯ ঘণ্টা তল্লাশি শেষে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বেরোয় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে মোট ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মিনার মণ্ডলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রের খবর, ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া ৭ জনকে বুধবার দুপুরে গ্রেফতার করে বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। এদের বাড়ি ঝাড়খন্ডের দুমকায়। সূত্রের খবর, এই ডাকাতদের কাছ থেকেই মিনার মণ্ডলের বাড়ির বিপুল অর্থভাণ্ডারের খোঁজ পায় পুলিশ৷ জানা গিয়েছে, গত ২৮ জুলাই, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহম্মদবাজার থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এই ডাকাতদের আটক করে৷ তারপরে, তাদের কাছ থেকেই জানতে পারে, তারা মিনার মণ্ডলের বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল। তাদের জেরা করতেই জানা যায় মিনারের বাড়িতে টাকা ও সোনা আছে। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ মিনারের বাড়িতে বুধবার ২৯ জুলাই ভোর ৩ টে থেকে অভিযান চালায়।
রাত ১০টার দিকেই মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে সোনার ওজনের দায়িত্বে থাকা নীলকণ্ঠ সালুই বেরিয়ে যান। বেরিয়ে যাওয়ার সময় জানান ১৫ কেজি সোনা পাওয়া গিয়েছে। সোনার বাটও পাওয়া গিয়েছে। তারপরে রাত ১টা ২০ নাগাদ ফের বের হয় ২টো ছোট টিনের বাক্স৷ পাশাপাশি চলছিল টাকার মেশিনে টাকা গোনা৷
সকাল হতেই মহম্মদ বাজারের ডেউচাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আরও জাওয়ান আনা হয়। বিশাল বাহিনী ঘিরে ফেলে পুরো বাড়ি সংলগ্ন এলাকা। সাথে সাথে রাতেই সিজার লিস্টের কাজে বাড়ানো হয় রাজ্য পুলিশের কর্মীদের সংখ্যা। অবশেষে, সিজার লিস্ট সম্পূর্ণ করে ৭টা৪৩ নাগাজ মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান পুলিশ আধিকারিকেরা৷
স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাদের সূত্রে খবর, মিনার পেশায় একজন সরকারি বাসের চালক ছিলেন। এর পাশাপাশি পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তিনি। টুলুর একাধিক খাদানের সঙ্গেও ওতপ্রোত ভাবে জড়িত মিনার। এমনকী, জানা গিয়েছে পূর্বতন সরকারের আমলের টুলু মণ্ডলের রাজস্ব আদায়ের গেটে ম্যানেজার ছিলেন এই মিনার। তবে এত টাকা এল কোথা থেকে, টাকার উৎস কী, কোনও বেআইনি পথে আয় কি না সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।