তাঁদের পরনে থাকবে গোলাপি আর কমলা পোশাক। মাথায় গোলাপি হেলমেট। পোশাকের সামনে ও পিছনে মা দুর্গার মুখের ছবি। মায়ের ত্রিনয়ন থেকে যেন উঠে এসেছে ত্রিশূল।
এই নতুন পোশাক পরেই এবার থেকে শহরের নারীদের সুরক্ষা দেবে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’। মহিলাদের সুরক্ষার জন্য স্কুটিতে করে টহলদারি টিম ‘উইনার্স’-এর নাম পালটেছে। উইনার্সের সদস্যরা এখন ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’-এর সদস্য। সেইমতো পুলিশের পোশাক তথা শার্ট-প্যান্ট পরে স্কুটি চালানোই দস্তুর। কিন্তু এবার এই মহিলা স্কোয়াডের ইউনিফর্মে আনা হচ্ছে বিশেষত্ব। তার সঙ্গে পালটানো হচ্ছে হেলমেটের চেহারাও। এবার থেকে স্কোয়াডের মহিলা পুলিশ আধিকারিক ও মহিলা পুলিশকর্মীদের পরনে থাকবে ওয়েস্টকোট ও অথবা অ্যাপ্রন। ডিউটির সময় পোশাকের উপর গোলাপি ও কমলা মিশ্রিত রঙের ওই ওয়েস্টকোট বা অ্যাপ্রন পরতে হবে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’কে। এর বোতাম হবে কমলা রঙের। দু’পাশে দু’টি সাইড পকেট থাকবে। আবার পকেট থাকবে ভিতরেও। পোশাকের সামনে ও পিছনের দিকটা গোলাপি হলেও দু’পাশ বা কলার থাকবে কমলা রঙের। পোশাকের সামনের অংশে বাঁদিকে ও পিছনে মা দুর্গার মুখ এবং ত্রিনয়নে ত্রিশূলের ছবি। তার নিচেই ইংরেজিতে বড় হরফে লেখা থাকবে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’।
লালবাজারের দাবি, গোলাপি রং মানে সহানুভূতি। আর কমলা রং জানান দেয় শক্তির। যখন ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’-এর সদস্যরা স্কুটি নিয়ে ডিউটি করবেন, তখন তাঁরা শহরের মানুষ ও বিপদে পড়া নারীদের প্রতি সহানুভূতি দেখাবেন, তেমনই সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন নারীদের উপর অত্যাচারের দমনে। এই পোশাক যেন তাঁদের গর্বের কারণ হয়। আপাতত লালবাজারের পক্ষ থেকে ১১০টি এই পোশাকের বরাত দেওয়া হচ্ছে। তার জন্য কলকাতা পুলিশ খরচ করছে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। যাঁরা বরাত পাবেন, তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, এই পোশাকে যেন আধুনিকতা ও পেশাদারিত্বের ছোঁয়া থাকে, তা যেন শক্তপোক্ত হয়। তবু পোশাক হতে হবে হালকা, আরামদায়ক ও সহজেই যেন পরা যায়। যে কোনও চেহারার মানুষ যেন এই পোশাক পরতে পারেন। এই পোশাক পরে ডিউটি করতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকে নির্মাতাদের নজর রাখতে বলেছে লালবাজার।
পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’-এর মাথায় থাকবে নতুন হেলমেট। গোলাপি রঙের এই হেলমেটের ভিতরের অংশে একাধিক স্তরের থার্মোকল রাখতে হবে, যাতে তা আরামদায়ক হয়। এই হেলমেট যেন সব দিক থেকেই ঘেরা থাকে ও থুতনিও যেন থাকে সুরক্ষিত। অবশ্য হেলমেটের ভিতরের অংশে যাতে বাতাস চলাচল করে ও যিনি পরে থাকবেন, তাঁর যাতে শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকও নজর রাখতে বলা হয়েছে। হেলমেটের সামনের কাচে যাতে সহজে আঁচড়ের দাগও না লাগে, তেমন মানের হতে হবে। হেলমেটের মাথায় থাকবে কলকাতা পুলিশের লোগো। এরকম ৮০টি হেমলেটের বরাত দেওয়া হয়েছে। তার জন্য ১ লাখ ৮ হাজার টাকা খরচ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।