• সল্টলেকে দম্পতির দেহ উদ্ধার, খাটের উপর পড়ে জোড়া দেহ
    এই সময় | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • সল্টলেকে দম্পতির রহস্যমৃত্যু। AE ব্লকের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো ষাটোর্ধ্ব স্বামী-স্ত্রীর দেহ। বৃহস্পতিবার সকালে শোওয়ার ঘরের খাট থেকে সজলকুমার কুণ্ডু (৬৪) ও তাঁর স্ত্রী রঞ্জনা কুণ্ডুর (৬১) নিথর দেহ উদ্ধার হয়। খাটের একপাশে পড়েছিলেন রঞ্জনা। সজলকুমার কুণ্ডুর দেহ অর্ধেক বিছানায়, পা ঝুলছিল মাটিতে। কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। গোটা ঘটনাই এখনও রহস্যে মোড়া। ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে পোকা মারার বিষের বোতল।

    সল্টলেক সেক্টর ওয়ানে AE ব্লক। সেখানেই মহাদেব নিবাসে থাকতেন সজলকুমার কুণ্ডু, রঞ্জনা কুণ্ডু। তাঁদের এক ছেলে আছেন, নাম সিদ্ধার্থ কুণ্ডু। এ দিন সকালে ছেলে বাড়ি ছিলেন না। বার বার বাবা, মাকে ফোন করলেও ফোনে পাননি। এর পরেই পাশের বাড়ির একজনকে ফোন করে খোঁজ নিতে বলেন। সেই ব্যক্তি এসে দেখেন গেটে তালা ঝুলছে। একাধিক বার কলিং বেল বাজালেও মেলেনি সাড়াশব্দ।

    এর পরে দম্পতির ছেলে সিদ্ধার্থ বাড়িতে আসেন। এসে অন্য একটি চাবি দিয়ে গেট খুলে ভিতরে ঢোকেন। শোওয়ার ঘরে ঢুকতেই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন। খাটের এক ধারে শক্ত হয়ে পড়ে আছেন রঞ্জনা। সজলের অর্ধেক দেহ খাটে, অর্ধেক মাটিতে। তাঁর পরণে জামা নেই, নীল রঙের ফরমাল প্যান্ট পরা, কোমরে বেল্ট। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় বিধাননগর উত্তর থানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

    প্রতিবেশীদের দাবি, রঞ্জনা কুণ্ডুর ক্যান্সার ছিল। যদিও চিকিৎসার পরে এখন সুস্থ ছিলেন বলেই খবর। প্রাথমিক তদন্তে ঘর থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দম্পতি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলতে নারাজ তদন্তকারীরা। ছেলে সিদ্ধার্থর সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা।

    সল্টলেকের সেক্টর-১-এর AE ব্লকের 'মহাদেব নিবাস' নামে একটি বাড়িতে।

    মৃতরা হলেন সজলকুমার কুণ্ডু এবং তাঁর স্ত্রী রঞ্জনা কুণ্ডু।

    ছেলে সিদ্ধার্থ কুণ্ডু বারবার ফোন করেও বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বাড়িতে এসে তাঁদের মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

    শোওয়ার ঘর থেকে একটি পোকা মারার বিষের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।

    তথ্য: তথাগত সেনগুপ্ত ও সৌমেন রায়চৌধুরী

  • Link to this news (এই সময়)