মালদহে গঙ্গার রুদ্ররূপ! চাষিদের ফসল বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া নির্দেশ মন্ত্রীর
News18 বাংলা | ৩০ জুলাই ২০২৬
: মালদহে ফের ফুঁসছে গঙ্গা। দেশের অন্যতম দীর্ঘ নদী গঙ্গার জলস্তর বাড়তেই ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে গঙ্গা তীরবর্তী এলাকায়। দিনের পর দিন ভয়ানক রূপে পরিণত হচ্ছে গঙ্গা। ইতিমধ্যেই মালদহের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে ভাঙন। এই মাসের ১৫ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এবছর নদী ভাঙন। মালদহের মানিকচক ব্লকের গোপালপুর অঞ্চলের এলাহীটোলা, সহবতটোলা, বালুটোলা, কামালাতিপুর, শান্তিমোড় ঘাট-সহ একাধিক এলাকার পাট চাষ জমি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায়।
গত পাঁচ বছরে প্রায় ৮০০ বিঘা জমি বিলীন হয়েছে গঙ্গা গর্ভে। এক চাষি শেখ রশিদ বলেন, “এক হাজার বিঘারও বেশি ফসলি জমি ছিল এই এলাকায় বর্তমানে ২০০ বিঘা জমি বেঁচে আছে। পাট, ভুট্টা, ধান, কলাই ইত্যাদি একাধিক রকম ফসল চাষ হয়। জল বাড়তেই আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় থাকা পাট জমি তলিয়েছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ দ্রুত ভাঙন রোধের কাজ করা হোক।” ভাঙন কবলিত স্থানীয় এক বাসিন্দা মহম্মদ সদাগর আলী বলেন, “গোপালপুর অঞ্চলের কালিটোলা, সহবতটোলা, এলাহীটোলা এই গ্রামের নদীর তীরে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত জরুরি পরিস্থিতিতে ভাঙন রোধের কাজ করা প্রয়োজন। নাহলে ফসলি জমি কাটার পর বাঁধ ভেঙে গোটা গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ ভাঙন রোধের কাজের টেন্ডার ধরা হলেও এক বছরে কোনও কাজ হয়নি। যদিও এবিষয়ে রাজ্য জলপথ ও সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জয়েল মুর্মু জানান, “প্রশাসনিক পর্যায়ে বৈঠক করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আধিকারিকদের। চাষিদের ফসল বাঁচাতে জরুরী পরিস্থিতিতে ভাঙন রোধে পাথর হোক বা মাটির বস্তা দ্রুত কাজ চালু করা হবে। যদিও টেন্ডার রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে আইনত হলে আগের টেন্ডারের কাজ হবে।”
জলপথ ও সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে গঙ্গার জলস্তর ২৩.৫০ মিটার যা বিপদসীমার অনেকটাই কাছাকাছি। যদিও আপাতত জলস্তর স্থির রয়েছে। তবে আগামীতে আরও বেশি বৃষ্টিপাত হলে জলস্তর বাড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। এখন দেখার এই পরিস্থিতিতে কবে শুরু হয় ভাঙন রোধের কাজ।