স্বাধীনতার ৮০ বছর পর মেদিনীপুরের ‘হেস্টিং হাউস’ থেকে সরছে ব্রিটিশ নাম? এবার কী জানুন
News18 বাংলা | ৩০ জুলাই ২০২৬
: দিন কয়েক পরেই বাংলার বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর প্রয়াণ দিবস। আর তার ঠিক আগেই মেদিনীপুর শহরের বুকে থাকা ব্রিটিশ আমলের এক স্মৃতিচিহ্নের নাম বদলের জোরালো দাবি উঠল। স্বাধীনতার প্রায় আট দশক পেরিয়ে গেলেও মেদিনীপুরের জেলা শাসকের সরকারি বাংলোটি এখনও ‘হেস্টিং হাউস’ নামেই পরিচিত। এবার এই ব্রিটিশ আমলের নাম মুছে ফেলে ভবনটির নাম ‘শহীদ ক্ষুদিরাম বোস ভবন’ করার প্রস্তাব দিলেন মেদিনীপুর বিধানসভার বিধায়ক ড. শঙ্কর কুমার গুছাইত। এই মর্মে তিনি ইতিমধ্যেই জেলা শাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছেন।
দেশের স্বাধীনতার জন্য একেবারে কিশোর বয়সেই হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি গলায় পরেছিলেন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র ক্ষুদিরাম বসু। দেশমাতৃকাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করাই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত। বিধায়কের মতে, স্বাধীন ভারতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনে এখনও ব্রিটিশ শাসকের নাম বহাল থাকাটা দেশের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনার পরিপন্থী। তাই দেশের স্বাধীনতার জন্য যিনি প্রাণ আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, সেই বীর সংগ্রামীর নামে ভবনটির নামকরণ করা হলে তা দেশের সমস্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি এক যথার্থ শ্রদ্ধা নিবেদন হবে।
এই নামকরণের প্রস্তাব প্রসঙ্গে মেদিনীপুরের বিধায়ক ড. শঙ্কর কুমার গুছাইত। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ক্ষুদিরাম বোস শুধু মেদিনীপুরের গর্ব নন, তিনি সমগ্র দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অমর প্রতীক। ব্রিটিশ আমলের নাম পরিবর্তন করে তাঁর নামে সরকারি ভবনের নামকরণ করা হলে তা ইতিহাস, জাতীয় আবেগ এবং স্বাধীনতার চেতনার সঙ্গে আরও বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।” বীর বিপ্লবীকে সম্মান জানাতেই তাঁর এই বিশেষ উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই বিধায়কের এই প্রস্তাবকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের অনেকেই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্মান জানাতে এমন পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত এই ব্রিটিশ আমলের স্মৃতি বিজড়িত ভবনের নাম পরিবর্তন করা হবে কি না, এবং রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসন এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছেন মেদিনীপুরবাসী।