• লিফট দুর্ঘটনার দায় কার? কার কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে হবে? ঐতিহাসিক রায়ে জানাল সুপ্রিম কোর্ট
    এই সময় | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • বহুতলে লিফট দুর্ঘটনার দায় এড়িয়ে গেলে চলবে না। এ ক্ষেত্রে নির্মাতা সংস্থা, রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা এবং বহুতলের মালিক বা পরিচালন কর্তৃপক্ষ— এই তিন পক্ষকেই যৌথ ভাবে দুর্ঘটনার দায় নিতে হবে। এক মামলার রায়ে এই কথা জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

    বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, শহরাঞ্চলে লিফট এখন গণপরিবহণেরই একটি মাধ্যম। এই ব্যবস্থার উপর আস্থা থেকেই মানুষ লিফটে ওঠেন। তাই যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, তা হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই দায় নিতে হবে। বিচারপতিরা বলেন, ‘লিফটে উঠে যিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন, তাঁর পক্ষে খুঁজে বের করা সম্ভব নয় যে, এই গাফিলতির জন্য কে দায়ী। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাঁর পরিবার যে কোনও এক পক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। পরে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করবেন, কার দায় কতখানি।’

    ২০০৩ সালে ভারতের গুপ্তচর সংস্থা ‘র’-এর সদর দফতরে লিফটে যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে প্রাণ গিয়েছিল কূটনীতিক বিপিন হান্ডার। সেই ঘটনা সংক্রান্ত মামলায় ২০০৪ ‘ন্যাশনাল কনজ়িউমার ডিসপিউট রিড্রেসাল কমিশন’ (এনসিডিআরসি) বিপিনের পরিবারকে ৩.০১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় লিফট নির্মাতা সংস্থা ‘ওটিস এলিভেটর কোম্পানি (ইন্ডিয়া) লিমিটেড’। শীর্ষ আদালত ওটিসের সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে এনসিডিআরসি-র রায়ই বহাল রাখে। পাশাপাশি ২০০৩ সালের ২০ মার্চ থেকে ক্ষতিপূরণের বকেয়া অর্থের উপরে বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে সুদও দিতে বলেছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ৯০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ মেটানো না হলে সুদের হার বেড়ে ১২ শতাংশ হবে।

    শীর্ষ আদালত তদন্তের নথিপত্র খতিয়ে দেখে জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণের ৭০ শতাংশ দিতে হবে ওটিসকে। কারণ, বার বার যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানা সত্ত্বেও যথাযথ পদক্ষেপ করেনি সংস্থাটি। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংস্থা সঠিক ভাবে লিফটের তদারকি করেনি বলে তাদের ২৫ শতাংশ টাকা দিতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও পদক্ষেপ না করায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ক্ষতিপূরণের ৫ শতাংশ টাকা দিতে বলেছে শীর্ষ আদালত।

  • Link to this news (এই সময়)