‘যাদের মতাদর্শ পালটায় তাদের দরকার নেই’, কালীঘাট তৃণমূলের সাহায্যের প্রস্তাব ফেরালেন ঐশী
প্রতিদিন | ৩০ জুলাই ২০২৬
বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের স্বার্থে, সব দলের একসঙ্গে লড়াই করা উচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে এই বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তার পালটা দিলেন এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ (Aishe Ghosh)। বললেন, “বামেদের লড়াই চিরকাল আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ছিল। যাঁদের মতাদর্শ পালটায় তাঁদের লড়াইয়ে দরকার নেই।”
ককরোচ জনতা পার্টির যন্তরমন্তর বিক্ষোভে শামিল হওয়ার পরই গত মঙ্গলবার ঐশীর বিরুদ্ধে পুরনো মামলায় পদক্ষেপ করে দিল্লি পুলিশ। যদিও শেষমেশ বামকর্মীদের বাধায় পিছু হটতে হয় পুলিশকে। সেখানে সিপিএম, এসএফআই, ডিওয়াইএফআই কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এমনকী দলের সাংসদরাও ছিলেন। তাঁরাই মূলত বাধা দেয় দিল্লি পুলিশকে। এ বিষয়ে খানিকটা অপ্রত্যাশিতভাবে বামেরা পাশে পায় কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি ঐশীর বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের নিন্দা করেন। বলে দেন, বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। কল্যাণ বলেছিলেন, “মতাদর্শ আলাদা হলেও বলতেই হয় এটা অন্যায়। আন্দোলন ঠেকাতে পুরনো মামলা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
যদিও ওই ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তা খুব একটা পছন্দ হল না এসএফআই নেত্রীর। কল্যাণের প্রস্তাবের জবাবে ঐশী মমতার নাম না করে বলেন, “আমরা তো বরাবর আরএসএস-এর বিরুদ্ধে লড়ে এসেছি। তখন অনেকে আরএসএসের দুর্গা সেজে থাকতে চেয়েছিল। প্রতি নির্বাচনে যাদের মতাদর্শ পালটায়, তাদের দরকার নেই।”
এদিকে, ঐশীকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা নিয়ে দিল্লি পুলিশের অভিযানের নিন্দা করেছে এসএফআই। এসএফআই-এর জাতীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, দিল্লির বিক্ষোভে শামিল হওয়ার অপরাধে ছাত্র-নেতাদের ধরপাকড় করে চাপে ফেলার ‘বড়’ লক্ষ্য ছিল পুলিশের। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা বলেন, “পুলিশকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতেই হবে। আমাদের বুঝতে হবে পুলিশ সেটাই করেছে।”