• ‘এসি ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করব’, রাজ্যসভায় শাহকে ‘হুমকি’ খাড়গের! তুঙ্গে বিতর্কে
    প্রতিদিন | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত কেন্দ্রের আনা নয়া আইন নিয়ে রাজ্যসভাতেও ঘোর বিতর্ক। কেন্দ্রকে আক্রমণ করতে গিয়ে ‘মাত্রা ছাড়ালেন’ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে কংগ্রেস সভাপতি বললেন, “একদিন বিরোধীরা আপনাদের এসি ঘর থেকে বের করে এনে জনতার সামনে ফেলে দেবে।” বিজেপি বলছে, রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতার ওই মন্তব্য আসলে স্পষ্ট হিংসাত্মক হুমকি।

    পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট অর্থাৎ প্রশ্নফাঁস বিরোধী আইন নিয়ে সংসদে আলোচনার শুরু থেকেই একের পর এক বিতর্ক চলছে। লোকসভায় প্রহ্লাদ যোশীকে নিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মন্তব্য, রাহুল গান্ধীর ‘ইডিয়ট-অন্ধভক্ত’ মন্তব্য দুই নিয়েই প্রবল হট্টগোল হয়েছে। দুই গান্ধীকেই ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। এবার রাজ্যসভাতেও সেই বিতর্কের পুনরাবৃত্তি। রাজ্যসভায় বিতর্কের কেন্দ্রে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। খাড়গে ওই বিল নিয়ে বলতে গিয়ে দাবি করেন, “নতুন করে এই আইন এনে লাভের লাভ কিছু হবে। কিছুই বদলায়নি। শুধু সংখ্যাগুলি বদলে গিয়েছে। শুধু একটু শাস্তি আর জরিমানা বেড়েছে।”

    খাড়গের প্রশ্ন, “এই বিল এনে কী হবে। এটা মনুস্মৃতি থেকে অনুপ্রাণিত মনু-নীতি। মনুস্মৃতি শুধুই বর্ণবাদে উসকানি দেয়। শিক্ষা ব্যবস্থা চালাচ্ছে আরএসএস। পড়ুয়াদের চাপের যাতে ক্ষমতা হারাতে না হয়, সেজন্যই জমি ছেড়েছে সরকার। পড়ুয়াদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করাটা সরকারের উদ্দেশ্যই নয়। তাড়াহুড়ো করে একটা বিল এনেছে। কেন ২০২৪ সালে প্রশ্নফাঁসের পর সেই প্রশ্নফাঁস আটকানোর চেষ্টা করা হল না?” সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে কংগ্রেস সভাপতি বলে দেন, “একদিন বিরোধীরা আপনাদের এসি রুম থেকে বের করে এনে জনতার সামনে ফেলে দেবে।” তাঁর সাফ কথা, “অমিত শাহকে জবাব দিতে হবে কেন পড়ুয়াদের উপর এত নির্যাতন করা হল।

    খাড়গের এই জোড়া মন্তব্যে প্রবল ক্ষুব্ধ বিজেপি। গেরুয়া সাংসদরা সঙ্গে সঙ্গে বলেন, এটা সরাসরি হিংসার হুমকি। খাড়গেকে ক্ষমা চাইতে হবে। তাঁর ‘মনুস্মৃতি’ মন্তব্য নিয়েও পালটা এসেছে বিরোধী শিবির থেকে। জেপি নাড্ডা-সুধাংশু ত্রিবেদীরা বলছেন, “খাড়গেজি নকল মনুস্মৃতি পড়ে ভুল বোঝাচ্ছেন, যা বলছেন সেটার স্বপক্ষে প্রমাণ দিন।” নাড্ডা বলে দেন, “আবেগের আতিশয্যে অসংসদীয় কথা বলছেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)