খনি থেকে পাথর প্রথমে যায় ক্রাশারে। সেখানে বিভিন্ন মাপে পাথর ভাঙা হয়। তারপর লরি ভর্তি পাথর যেত নানা জায়গায়। ওই লরি বেরনোর চাবিকাঠিই হল ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট অর্থাৎ ডিসিআর। ছাপাখানায় নাকি ওই ডিসিআর ছাপাতেন বীরভূমের (Birbhum) ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডল।
ব্যাসল্ট পাথরের খনি থেকে বীরভূমের মহম্মদবাজার থেকে মুরারই, নলহাটির বিস্তীর্ণ এলাকার পাশাপাশি গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ত। কোথায় কতটা সরবরাহ করা হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করতেন টুলু। এই পাথরবোঝাই লরি থেকে সরকারের কোষাগারে প্রতিদিন অন্তত আড়াই কোটি টাকা শুল্ক রাজ্যের কোষাগারে জমা পড়ার কথা ছিল। তবে বাস্তবে তার ১০ শতাংশ টাকাও জমা পড়েনি। ওই টাকা চলে যেত টুলুর কাছে। সেখান থেকে তৃণমূল নেতামন্ত্রীদের কাছে টাকা পৌঁছত, এমনই দাবি বিজেপির।
বলে রাখা ভালো, বাম আমলে পাথর খনি লিজ নিতেন যিনি তাঁকে রাজ্য সরকারের ভূমি রাজস্ব দপ্তরকে শুল্ক দিতে হত। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত বাণিজ্যিক কর নিত। তাদের দেওয়া চালান না থাকলে লরি যাতায়াত সম্ভব হত না। তৃণমূলের জমানায় টন কিংবা কিউবিক মিটার পিছু শুল্ক নিত ভূমিরাজস্ব দপ্তর। টুলুর তৈরি করা জাল ডিসিআরের মাধ্যমে যে টাকা উঠত তা অবশ্য যেত না ভূমিরাজস্ব দপ্তরে। সুতরাং তার ফলে বিপুল টাকা ক্ষতি হয়েছে রাজ্যের কোষাগারে।
হিসাব বলছে, তৃণমূল সরকারের আমলে ডিসিআরের মাধ্যমে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবরে ১৯ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। নভেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭০ লক্ষ টাকা। বর্তমান সরকারের আমলে ১৭ মে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। পরদিন বেড়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ হয়েছে ২ কোটি ৩০ লক্ষ। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট ঠিক কতটা রাজ্যের কোষাগারের ক্ষতি হয়েছে। এই জালিয়াতির নেপথ্যে ভূমিরাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকরা রয়েছেন বলেও মনে করা হচ্ছে। এভাবেই টুলু এত বিপুল অর্থের মালিক হয়ে গিয়েছিলেন বলেই অনুমান তদন্তকারীদের। আদতে কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।