• ফিল্মি স্টাইলে একাই লড়লেন টোটো চালক, হিংস্রদের মুখ থেকে ছিনিয়ে নিলেন শিকার! এখন সবার 'হিরো'
    News18 বাংলা | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • টোটোর আসনে বিরল দৃশ্য! জীবন বাজি রেখে জাতীয় পাখিকে আগলে সোজা বনদফতরে পৌঁছালেন টোটো চালক। একদল ক্ষিপ্ত কুকুরের মুখোমুখি টোটো চালক! জীবন বাজি রেখে যেভাবে বাঁচালেন জাতীয় পাখিকে, কুর্নিশ জানাচ্ছে ধূপগুড়ি। তাঁর জন্যই নতুন জীবন পেল ময়ূরটি। বিপদের মুখে থাকা একটি অবলা প্রাণীর প্রাণ বাঁচাতে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেননি তিনি। নিজের জীবনের পরোয়া না করে, ১০-১২টি ক্ষিপ্ত কুকুরের মুখ থেকে একটি ময়ূরকে উদ্ধার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির এক টোটো চালক।

    ঘটনাটি ঘটেছে ধূপগুড়ি ব্লকের পূর্ব মাগুরমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ধূপগুড়ি পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বামনীব্রিজ এলাকার বাসিন্দা রবি অধিকারী পেশায় একজন টোটো চালক। রোজকার মতো কাজের তাগিদে তিনি মাগুরমারি এলাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছতেই তাঁর নজরে আসে একটি শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য। তিনি দেখেন, একদল হিংস্র কুকুর ঘিরে ধরেছে একটি জাতীয় পাখি ময়ূরকে। পাখিটিকে ছিঁড়ে খাওয়ার উপক্রম করছে কুকুরগুলি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিন্দুমাত্র দেরি করেননি রবিবাবু।

    তড়িঘড়ি নিজের জুতো জোড়া খুলে হাতে একটি শক্ত লাঠি তুলে নেন তিনি। একা হাতেই ধাওয়া করেন ওই ১০-১২টি কুকুরের দলের ওপর। লাঠি উঁচিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে কুকুরগুলিকে তাড়িয়ে খানিক রক্তাক্ত ও আতঙ্কিত ময়ূরটিকে উদ্ধার করেন। সাধারণত এমন ঘটনার পর বনকর্মীরা এসে প্রাণীটি নিয়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ময়ূরটির শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে বনদফতরের পৌঁছনোর অপেক্ষায় বসে থাকেননি রবিবাবু। পরম যত্নে ময়ূরটিকে কোলে তুলে নিয়ে নিজের টোটোতে বসিয়ে সোজা রওনা দেন সোনাখালি বনদফতরের ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে।

    সেখানে পৌঁছে বনকর্মীদের হাতে সুনির্দিষ্টভাবে জাতীয় পাখিটিকে সমর্পণ করেন। বন দফতরের হাতে ময়ূর তুলে দেওয়ার পর রবি অধিকারী জানান, কুকুরগুলির হাত থেকে যদি ওই মুহূর্তে না বাঁচাতাম, তবে ময়ূরটিকে মেরেই ফেলত। সময় নষ্ট না করে বনদফতরে পৌঁছে দিতে পেরে সত্যি খুব আনন্দ হচ্ছে। একজন সাধারণ টোটো চালকের এই সততা, সাহসিকতা ও বন্যপ্রাণীর প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা দেখে মুগ্ধ বনকর্মীরাও।
  • Link to this news (News18 বাংলা)