• দিঘায় সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তায় রাজ্যের বড় উদ্যোগ, সচেতনতা কর্মসূচিতে জোর
    News18 বাংলা | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • সমুদ্রে মাছ ধরার মরশুম চলছে। প্রতি বছরই মাছ ধরার মরশুমে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এবং তাতে জেলেদের প্রাণহানির ঘটনাও দেখা যায়। এ বছর ‘মা কালী’ ট্রলারডুবির ঘটনায় প্রায় ১৬ জন জেলে নিখোঁজ ও মৃত। তবে এবার পরিস্থিতি বদলাতে চায় বর্তমান রাজ্য সরকার। সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তায় রাজ্য সরকারের বড় পদক্ষেপ। মৎস্যজীবীদের পাশে দাঁড়াতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। একদিকে যেমন সমুদ্রে যাওয়ার জন্য তাঁদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে, তেমনই সমুদ্রে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে কী করণীয়, সে বিষয়েও তাঁদের সচেতন করা হচ্ছে।

    উপকূলবর্তী এলাকার সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মৎস্য, জলজপ্রাণী বিকাশ, জলজসম্পদ ও মৎস্য দফতরের উদ্যোগে সমুদ্র সৈকত নগরী দিঘায় অনুষ্ঠিত হল এক বৃহৎ সচেতনতামূলক কর্মসূচি। দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের সভাকক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মৎস্যজীবী, ট্রলার মালিক, মৎস্যজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রাজেশ মহাত। উপস্থিত ছিলেন এগরার বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুচ্ছাইত শহর স্থানীয় রামনগরের বিধায়ক এবং মৎস্য দফতরের সচিব ও অন্যান্যরা।

    মৎস্য দফতর, উপকূল নিরাপত্তা বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকে সঙ্গে মৎস্যজীবীদের সমন্বয় সাধন করা হয়। মূলত, সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা, ট্রলারে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখা, ভিএইচএফ সেট ও অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা, সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় সমুদ্রে না যাওয়ার মত বিষয়গুলি কঠোরভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড়, নিম্নচাপ বা সমুদ্রের আকস্মিক দুর্যোগের সময় কীভাবে দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরে আসতে হবে, কীভাবে উদ্ধারকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

    মৎস্যজীবীদের হাতে-কলমে বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জামের ব্যবহার সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়। মন্ত্রী বলেন, “উপকূলবর্তী অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের জীবিকা সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল। তাই তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।” কর্মসূচিতে সরকারের পক্ষ থেকে মৎস্যজীবীদের জন্য চালু থাকা বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প, দুর্ঘটনা বিমা, আর্থিক সহায়তা, উদ্ধার পরিষেবা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদে মাছ ধরার সুবিধা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন উপস্থিত মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকরা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)