• E20 পেট্রল ব্যবহারে কোন গাড়ির ক্ষতি হতে পারে? স্পষ্ট জানালেন নীতিন গড়করি
    এই সময় | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • E20 পেট্রল নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিতর্কের মাঝেই বড় তথ্য সামনে আনলেন কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি। E20 পেট্রলের (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল) ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো গাড়ির মালিকদের মনে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও সংশয়ের উত্তরে রাজ্যসভায় স্পষ্ট জবাব দিলেন তিনি। রাজ্যসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০০৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে তৈরি বিএস-৩ (BS-III) যানবাহনে ই-২০ পেট্রল ব্যবহারের ফলে কিছু রবারের যন্ত্রাংশ এবং গ্যাসকেট (Gaskets) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে গুলি পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

    রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে E20 পেট্রল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি গাড়ি চালকদের আশ্বস্ত করে নীতিন জানিয়েছেন যে, সাধারণ রুটিন সার্ভিসিংয়ের সময়েই এই রবার পার্টসগুলো মেকানিক দিয়ে সহজে বদলে নেওয়া সম্ভব এবং এর ফলে গাড়ির সামগ্রিক পারফরম্যান্সে কোনও বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে এর জন্য ইঞ্জিনে কোনও পরিবর্তন করার দরকার নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

    রাজ্যসভায় সিপিআই সাংসদ এএ রহিমের এক প্রশ্নের জবাবে গড়করি জানান, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পেট্রোলিয়াম (IIP), দেরাদুন, সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (SIAM) এবং অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (ARAI)-এর সমীক্ষায় দুই ও চার চাকার যানবাহনের উপরে ই২০ জ্বালানির প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, ‘E20 হলো এমন একটি জ্বালানি, যেখানে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রল মিশ্রিত থাকে। ইথানলের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের কারণে পুরোনো গাড়ির কিছু রবারের পাইপ, সিল এবং গ্যাসকেটের উপর প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই নির্দিষ্ট কিছু গাড়িতে ওই অংশগুলি বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।'

    মন্ত্রী জানান, বিশেষ করে ১ এপ্রিল ২০০৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে তৈরি BS-III মানের কিছু গাড়িতে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এটি সব গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। গাড়ির নির্মাতা সংস্থার নকশা ও ব্যবহৃত উপাদানের উপরে বিষয়টি নির্ভর করছে।

    গড়করি স্পষ্ট করে বলেন, E20 পেট্রল ব্যবহারের জন্য ইঞ্জিনে কোনও ধরনের মডিফিকেশন বা বড়সড় পরিবর্তনের দরকার নেই। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, E20 ব্যবহারে গাড়ির পারফরম্যান্স, স্টার্ট নেওয়ার ক্ষমতা, ড্রাইভেবিলিটি, ধাতব অংশ বা প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশে উল্লেখযোগ্য কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। প্রয়োজন হলে শুধু কিছু রাবারের অংশ ও গ্যাসকেট বদলাতে হতে পারে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষায় এটি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে ই২০ জ্বালানিতে চলার পরেও পুরোনো যানবাহনগুলির (Legacy Vehicles) স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় কোনও উল্লেখযোগ্য হেরফের হয়নি, কিংবা অস্বাভাবিক ক্ষয়ক্ষতিও দেখা যায়নি। গাড়ি চালানো (Drivability), স্টার্ট হওয়া (Startability), ধাতব বা প্লাস্টিক পার্টসের উপযোগিতার মতো ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা রেকর্ড করা হয়নি।’

    E20 পেট্রল ব্যবহারের কারণে যানবাহনের ফুয়েল এফিসিয়েন্সি বা মাইলেজ কমে যাচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠছিল, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে গাড়ির মাইলেজ কেবল জ্বালানির ধরনের উপর নির্ভর করে না।

    গাড়ির মাইলেজ কমা বা বাড়ার পিছনে মূল কারণগুলি হলো:

    কেন্দ্রের দাবি, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারে অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমবে, কার্বন নির্গমন হ্রাস পাবে এবং আখ ও অন্যান্য ফসল থেকে উৎপাদিত ইথানলের চাহিদা বাড়ায় কৃষকরাও লাভবান হবেন। সেই কারণেই ধাপে ধাপে দেশে E20 পেট্রল চালু করা হয়েছে।

    E20 পেট্রল নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ দাবি করেছে, পুরোনো গাড়ির মালিকদের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন করা হয়নি। যদিও সরকার বলছে, বিস্তৃত গবেষণায় E20 ব্যবহারে গাড়ির সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বা স্থায়িত্বের উপর বড় কোনও নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ মেলেনি।

    E20 হল এমন একটি জ্বালানি যাতে ২০% ইথানল এবং ৮০% পেট্রল মিশ্রিত থাকে।

    নীতিন গড়করির মতে, ১ এপ্রিল ২০০৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে তৈরি কিছু BS-III গাড়িতে রবারের পাইপ, সিল ও গ্যাসকেট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    না। এটি সব BS-III গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। গাড়ির নির্মাতা সংস্থা, ডিজাইন এবং ব্যবহৃত উপাদানের উপর বিষয়টি নির্ভর করে।

    না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইঞ্জিনে কোনও বড় পরিবর্তন বা মডিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।

    সরকারের মতে, শুধুমাত্র E20 ব্যবহারের কারণে মাইলেজ কমে যায়—এমন প্রমাণ নেই। ড্রাইভিং স্টাইল, সার্ভিসিং, টায়ারের চাপ ও এসি ব্যবহারের মতো বিষয়ও মাইলেজে প্রভাব ফেলে।

    অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমানো, কার্বন নির্গমন হ্রাস এবং কৃষকদের আয় বাড়াতে ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।

  • Link to this news (এই সময়)