উত্তরবঙ্গ মেডিকেল: প্রশাসনিক পদে বদল হলেও মর্গে এখনও টাকা চেয়ে জুলুমবাজি
বর্তমান | ৩০ জুলাই ২০২৬
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরপর উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেও প্রশাসনিক পদে রদবদল হয়েছে। কিন্তু তাতে পুরনো ব্যাধিমুক্ত হতে পারেনি হাসপাতাল। তোলাবাজি, কাটমানির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দিয়েছেন। বারবার সতর্ক করছেন। তারপরেও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের মর্গে মৃতদেহ রাখতে টাকা আদায়ের অভিযোগ ফের সামনে এল। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির কাজীপাড়ার বাসিন্দা বীরেন রায়ের (৫০) মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখতে গেলে হাসপাতালের এক কর্মী পরিবারের লোকদের কাছ থেকে দু’হাজার টাকা দাবি করেছে বলে অভিযোগ।
মৃতের আত্মীয় ফুলেশ্বর রায় বলেন, সোমবার গভীর রাতে তালমার কাছে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন বীরেন রায়। মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে দেখি বীরেন মারা গিয়েছে। তখন তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সেখান থেকে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু ময়নাতদন্তের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় মৃতদেহটি রাতে মর্গে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সেসময় এক কর্মী মৃতদেহ মর্গে রাখতে দু’হাজার টাকা দাবি করে।
ফুলেশ্বরবাবুর অভিযোগ, আমরা গরিব। আর সরকারি জায়গায় কেন টাকা দেব। তাই ঠিক করেছিলাম মৃতদেহ নিয়ে পুলিশের কাছে যাব। সেই মতো উদ্যোগ নিতেই হাসপাতালের এক কর্মী তড়িঘড়ি মৃতদেহ মর্গে নিয়ে গিয়ে রেখে দেয়। বুধবার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে অভিযুক্ত কর্মীকে আর পাওয়া যায়নি। কেউ আর টাকাও চায়নি।
এমএসভিপি ডাঃ কৌশিক ঈশোর বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্তমান সরকারের যে অবস্থান তাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে টাকা দাবি বা কাটমানি নেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই সপ্তাহ আগেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় তৎকালীন প্রিন্সিপাল ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে চার কর্মীকে শোকজ করেছিলেন। তবে প্রশাসনিক রদবদলের পর সেই ঘটনার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।