• অবৈধ বালি উদ্ধার, তৃণমূল কাউন্সিলারের স্বামী গ্রেপ্তার
    বর্তমান | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ঝালদা: অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বালি মজুতের অভিযোগে ঝালদা শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার রিজওয়ানা খাতুনের স্বামী পেশায় বিড়ি ব্যবসায়ী টুনু খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  মঙ্গলবার টুনুর বাড়িতে কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালায় পুলিশ ও ভূমি দপ্তর। ঝালদা শহরের বাগানডি এলাকার ওই বাড়িতে যৌথ অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার ঘন ফুট বালি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। বৈধ নথি দেখাতে না পারায় টুনু খানকে গ্রেপ্তার করে ঝালদা থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝালদা-১ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের (বিএল অ্যান্ড এলআরও) লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চলে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্লট নম্বর ৪০৮৯, মৌজা ঝালদা, জে.এল. নম্বর ১৩১-এ বিপুল পরিমাণ বালি অবৈধভাবে মজুত রয়েছে। মঙ্গলবার ভূমি দপ্তর ও পুলিশের যৌথ পরিদর্শনে সেই অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। 

    তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাস্থলে থাকা বালির নিয়ন্ত্রক ছিল টুনু খান। তাঁকে বালি মজুতের বৈধ অনুমতি বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখানোর সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। এরপর ভূমি দপ্তরের অভিযোগের ভিত্তিতে ঝালদা থানায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন টুনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বালির উৎস, কীভাবে তা সেখানে আনা হয়েছিল, পরিবহণ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কারো যোগ রয়েছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ টুনুকে নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার আবেদনও আদালতে জানাতে পারে বলে সূত্রের খবর। এদিন অভিযানের সময় গোটা এলাকা ঘিরে রাখে বিশাল পুলিশ বাহিনী। উপস্থিত ছিলেন ঝালদার এসডিপিও গৌরব ঘোষ, ঝালদা থানার আইসি শেষ কুমার-সহ পুলিশের একাধিক আধিকারিক এবং ভূমি দপ্তরের কর্মীরা। দীর্ঘ সময় ধরে চলে তল্লাশি ও নথি যাচাইয়ের কাজ।

    উল্লেখ্য, টুনু খান ঝালদার পরিচিত বিড়ি ব্যবসায়ী। গত পুরসভা নির্বাচনে টুনুর স্ত্রী রিজওয়ানা খাতুন তৃণমূলের হয়েই ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নির্বাচিত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে পালাবদলের পর গত মে মাসেও টুনুর বিড়ি কারখানায় জিএসটি দপ্তর অভিযান চালিয়েছিল।

    এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির বাঘমুণ্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাতোর দাবি, শুধু বালি নয়, ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কেন্দুপাতাও মজুত রয়েছে। সেই অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি। 
  • Link to this news (বর্তমান)