• বেগুন ১২০! অগ্নিমূল্য বাজার, সবজি কিনতেই পকেট ফাঁকা মধ্যবিত্তের, সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি
    বর্তমান | ৩০ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভরা বর্ষার মরশুম। সকাল থেকে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। ছাতা মাথায় বাজারে গিয়ে পাইকপাড়ার রঞ্জন রায় ভাবছিলেন, খিচুড়ি আর বেগুন ভাজার এই তো সময়! সঙ্গে সঙ্গে ঢুঁ মারলেন পরিচিত সবজি দোকানে। বেগুন কত করে, জানতে চাইলেন। দাম শুনে তো তাঁর চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! এক কেজি বড়ো সাইজের গোল বেগুনের দাম ১২০ টাকা! ফিরেই আসছিলেন। শেষে বিক্রেতার জেদাজেদিতে ৬০ টাকায় দুটো বেগুন ব্যাগে ভরলেন। 

    শুধু বেগুন নয়, বাজারে প্রায় সব কাঁচা সবজির দামই আকাশছোঁয়া। পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ব্যাগের অর্ধেকও ভরছে না। বুধবার সকালে গড়িয়াহাট বাজারে এঁচোড়ের দাম শুনে রঞ্জনবাবুর মতোই চমকে উঠলেন বালিগঞ্জের শুক্লা মজমুদার। তিনি বলছিলেন, ‘এত দাম হলে লোকে খাবে কী! এভাবে দাম বাড়তে থাকলে তো খাওয়াই বন্ধ করে দিতে হবে।’ 

    বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বর্ষাকালে সবজির দাম একটু চড়াই থাকে। বিশেষ করে বেশি বৃষ্টি হলে মাঠে জল জমে সবজি নষ্ট হয়। এবার কিন্তু সেরকম বৃষ্টি এখনও হয়নি। তারপরও সবজির দাম অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। টমেটো-বাঁধাকপি-ফুলকপি প্রভৃতি সবজি ভিন রাজ্য থেকে আসছে। তা সত্ত্বেও এগুলির দাম তুলনামূলক কম। কিন্তু রাজ্যেই ফলন হয় পটল, ঢেঁড়স, বেগুন, ঝিঙে, কুমড়ো, পেঁপে, উচ্ছে ইত্যাদি। এসব সবজি অগ্নিমূল্য। মানিকতলা বাজারের বিক্রেতা কার্তিক সাহা বলছিলেন, ‘গত ৭-১০ দিন ধরে দাম বেড়েই চলেছে। প্রায় কোনো সবজিই কেজিতে ৬০-৭০ টাকার কমে বিক্রি করা যাচ্ছে না।’ হাতিবাগান বাজারের এক ক্রেতার কথায়, ‘সবজির দাম আমাদের মতো নিম্ন মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে। সরকারের কি বাজারের উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই? অবিলম্বে সরকার হস্তক্ষেপ করুক।’ তাঁর মতো আরও অনেকে মনে করছেন, সবজির এই চড়া দামের পিছনে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত ফড়েরাজ। সরকার বা প্রশাসনের সঠিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ থাকলে এই পরিস্থিতি হওয়ার কথা নয়। 

    বিগত সরকারের সময় বাজারমূল্যর উপর নজরদারির জন্য একটি টাস্ক ফোর্স ছিল। তারা নিয়মিত বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালাত। কিন্তু নতুন সরকার আসার পর সেরকম কিছু চোখে পড়েনি। কৃষি বিপণন দপ্তরে পূর্ণ সময়ের মন্ত্রী নেই। ওই দপ্তরই দ্রব্যমূল্য তদারকির কাজ করে। বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলে কৃষি বিপণনের একজন পূর্ণ সময়ের মন্ত্রী ছিলেন। বর্তমান সরকারে দিলীপ ঘোষকে গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চায়েত দপ্তরের সঙ্গে এই দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল সরকারের টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে মনে করেন, ‘নতুন সরকারের উচিত তাদের পছন্দমতো লোকজনকে নিয়েই একটি নজরদারি ব্যবস্থা ফের চালু করা। এতে দাম কিছুটা হলেও কমবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)