তিনি যাঁকে ভোট দিয়েছিলেন তিনি একটি প্রতীকে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই প্রতীক দেখেই ভোট দিয়েছিলেন ভোটার। কিন্তু জেতার পরে সেই অর্থে দলবদল না করলেও, ‘’শিবির বদল করেছেন বিধায়ক। তাই এ বার চিঠি লিখে নিজের এবং পরিবারের দেওয়ার ভোট ‘’ফেরত চাইলেন সেই ভোটার। বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিকের উদ্দেশে এমনই একটি আবেদনপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
সন্দীপ ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি এই পোস্ট করেছেন। সন্দীপের দাবি, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিশীথ মালিককে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে ওই বিধায়ক মমতার সঙ্গ ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। সেই কারণে সন্দীপের দাবি, এই কাজ করে ওই বিধায়ক তাঁর বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। সেই কারণে তাঁদের দেওয়া ভোট ‘’প্রত্যাহার বা ‘ফেরত’ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। পোস্টের সঙ্গে একটি আবেদনপত্রও প্রকাশ করা হয়েছে। সন্দীপের দাবি, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখেই ভোট দিয়েছিলেন, তাই মমতা-তৃণমূল ও ঋতব্রত-তৃণমূল বিতর্কের মাঝে এ বার নিজের ভোট ফেরত চেয়ে জেলাশাসক, বিধায়ক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে চিঠি দিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘SIR-এর পরে ভোটার হয়েছি। আমার মূল্যবান ভোট এটি। আমি গোড়া থেকে তৃণমূল করি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ভোট দিয়েছি। আমাদের ভোট নিয়ে যিনি বিধায়ক হলেন, তিনি পিঠ বাঁচাতে অন্য শিবিরে চলে গেলেন।’
বিতর্কের জেরে মুখ খুলেছে বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘উনি কে, আমি চিনি না। কাকে আবেদন করেছেন, তা স্পষ্ট নয়।’ এই ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা সঞ্জয় দাস, তিনি বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ছিলেন। তাঁর দাবি, ‘মানুষ নিশীথ মালিকের উপর আস্থা হারিয়ে ভোট ফেরতের দাবি তুলছেন।’
যদিও নির্বাচন আইন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরে কোনও ভোটারের নিজের দেওয়া ভোট প্রত্যাহার বা ‘ফেরত’ নেওয়ার কোনও আইনি ব্যবস্থা নেই। তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত, আইনি ভিত্তি না থাকলেও বিষয়টির নৈতিক দিককে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।