• স্কুলের ড্রেস ও বিল্ডিংয়ের রঙ নিয়ে বড় ঘোষণা রাজ্যের!
    আজকাল | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক নীতিতে দু’টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা করল শিক্ষা দপ্তর। প্রথমত, রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলির ভবনের রং এবং পোশাকের ইউনিফর্ম নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলিকেই স্বাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলে সব স্কুলের ভবনের রং নীল-সাদা করা এবং নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম চালুর যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী তা আর বাধ্যতামূলক থাকছে না। স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ পরিষ্কার জানিয়েছেন, ঐতিহ্য ও ইতিহাস বজায় রেখে বিদ্যালয়গুলি চাইলে তাদের পুরোনো রঙে ফিরতে পারে, আবার ইচ্ছা হলে নীল-সাদা রঙও বজায় রাখতে পারে। তবে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনও  স্কুলেই আর ‘বিশ্ব বাংলা’ লোগো থাকবে না।

    অন্যদিকে, রাজ্যের স্কুলগুলিতে শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষকের অসামঞ্জস্য দূর করতে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত (PTR) মেনে পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শহরের বহু স্কুলে অতিরিক্ত শিক্ষক থাকলেও গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলগুলিতে শিক্ষক ঘাটতির সমীকরণ মেলাতে এই পদক্ষেপ। তবে বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষকদের বয়সের বিষয়টিকেই সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দপ্তর। প্রবীণ বা ৫০ থেকে ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করা শারীরিকভাবে কষ্টকর হওয়ায় পাঠদানের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী কম সিনিয়রিটি থাকা শিক্ষকদেরই উদ্বৃত্ত হিসেবে চিহ্নিত করে প্রয়োজন থাকা স্কুলগুলিতে পাঠানো হবে।

    এক্ষেত্রে মন্ত্রী দীপক বর্মণ আরও আশ্বাস দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক পরিচয় বা কে কোন আমলে নিযুক্ত হয়েছেন তা বিচার করা হচ্ছে না। অতিরিক্ত হিসেবে বদলি হওয়া শিক্ষকেরা পরবর্তীতে আবার ‘উৎসশ্রী’ পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করে নিজ জেলায় ফেরার সুযোগ পাবেন। শিক্ষকদের মানসিক সুস্থতা ও পারিপার্শ্বিক স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকলে শেষ পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়ে পুরো রাজ্যই উপকৃত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
  • Link to this news (আজকাল)