• বদলে যাবে দিঘা, মন্দারমনি, তাজপুর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন মোড়কে ফিরছে পুরনো সৌন্দর্য্য
    News18 বাংলা | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ উপকূলবর্তী জেলা পূর্ব মেদিনীপুর। একসময় এই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূল মানেই যেন ছবি ছিল নানান ধরনের গাছ-গাছালি দিয়ে মোড়া। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিঘা, মন্দারমনি বা তাজপুর যাই হোক না কেন, অসংখ্য গাছ দিয়ে ঘেরা ছিল এই জায়গাগুলি। কিন্তু উন্নয়নের সঙ্গে আপোষ করা হয় পরিবেশের। তাই দিঘার এখন ঝাউবন বিলুপ্তপ্রায়। অন্যদিকে জেলার অন্যান্য সমুদ্র সৈকতগুলিতে দ্রুতই কমছে গাছের সংখ্যা। কিন্তু রাজ্য সরকার উপকূলীয় অঞ্চল বাঁচাতে কংক্রিটের বদলে গাছপালা দিয়ে মুড়ে ফেলতে চাইছে উপকূলকে।

    বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় সৈকত তাজপুর। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এই তাজপুর বর্তমানে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। পর্যটকদের নতুনভাবে আকৃষ্ট করছে। কাঁথি ফরেস্ট রেঞ্জের অধীনে রয়েছে তাজপুর। একদিকে নানান গাছগাছালির জঙ্গল, অন্যদিকে সমুদ্রের গর্জন। তবে এই তাজপুরে কমছে জঙ্গলের আয়তন। অন্যদিকে সমুদ্র ক্রমশ এগিয়ে আসছে তট ভেঙে। তাই এবার এই তাজপুরসহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূল বাঁচাতে দেড় কোটি ম্যানগ্রোভ চারা এবং ৫০ লক্ষ অন্যান্য চারা গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই প্রাথমিক কর্মসূচি হিসাবে ৩০ জুলাই তাজপুরে ম্যানগ্রোভ ও অন্যান্য চারা লাগানো হল।

    প্রসঙ্গত, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপকূলে মুক্ত বনাঞ্চল ও উপকূলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন। রাজ্যের অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলে গাছ লাগানোতে জোর দিতে বলেছেন। তারপর থেকেই বন দফতর তৎপরতা বাড়ে। উপকূলের মুক্ত বনাঞ্চল ও ম্যানগ্রোভ লাগানোর জন্য আগেই এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন বনদফতরের সচিবরা। আর ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার রাজ্যের বন দফতরের মন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও-এর উপস্থিতিতে শুরু হয় উপকূল এলাকায় গাছ লাগানো। মন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও নিজের হাতে তাজপুর উপকূলে চারা রোপন করেন। উপস্থিত ছিলেন, রাজ্যের সেচমন্ত্রী অরুপ কুমার দাস, প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি, অতিরিক্ত মুখ্য সচিব মনোজ জৈন, স্থানীয় বিধায়কগণ ও বন দফতরের আধিকারিকগণ।

    সবুজ উপকূল, সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ, এই স্লোগানকে সামনে রেখে উপকূল বাঁচানোর ডাক দিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। এ বিষয়ে বন দফতরের মন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও জানান, “উপকূল বাঁচাতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ২ কোটি চারা গাছ লাগানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। যার মধ্যে দেড় কোটি ম্যানগ্রোভ চারা ও বাকি ৫০ লক্ষ অন্যান্য চারা গাছ লাগানো হবে। আজকেই ঝাউ নারকেল সহ অন্যান্য চারা গাছ মিলিয়ে দশ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ম্যানগ্রোভ চারা রোপনের সময় অক্টোবর মাসের পর। ফলে সেই সময় ওই ম্যানগ্রোভ চারা লাগানো হবে।” প্রসঙ্গত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন সমুদ্র উপকূলগুলি ক্রমশ কংক্রিটে মোড়া হচ্ছে পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নের স্বার্থে। তবে সেসব আর না, গাছ গাছালি ঘেরা সমুদ্র সৈকত ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার!
  • Link to this news (News18 বাংলা)