• পালাবদলের রাজ্যে হয়ে গেল বিজনেস মিট
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • আজ দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিজনেস মিট। সেখানে শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। যা নিয়ে আশাবাদী রাজ্যের সরকার।

    এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র , মন্ত্রী অজয় পোদ্দার, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রিন্সিপল সেক্রেটারি বন্দনা যাদব, রানীগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আর. পি. চৌধুরী এবং সাউথ বেঙ্গল ফেডারেশন অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিস দুর্গাপুর এর প্রেসিডেন্ট রাকেশ ভট্টড় সহ শিল্পজগতের বিশিষ্ট প্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক ও অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র জানান , ‘শিল্পই বাংলার আগামী দিনের শক্তি, আর সেই লক্ষ্যেই সরকার ও শিল্পজগতের মধ্যে গড়ে উঠছে এক নতুন আস্থার সেতুবন্ধন। আজকের এই ইন্ডাস্ট্রি বিজনেস মিটে হয়তো প্রথমবার এই  এলাকার শিল্পপতিরা সরাসরি সরকারের মন্ত্রীদের  সঙ্গে একান্তে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছেন, তুলে ধরেছেন তাঁদের মূল্যবান পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা।

    আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট শিল্পের বিকাশের পথে যে বাধা ও ঘাটতিগুলি রয়েছে, সেগুলি দ্রুত দূর করে বাংলাকে আবারও শিল্পের শীর্ষস্থানে ফিরিয়ে আনা। একসময় দেশের শিল্প মানচিত্রে অগ্রণী থাকা বাংলা দীর্ঘদিন পিছিয়ে পড়েছিল, কিন্তু সেই অধ্যায় এবার বদলানোর সময় এসেছে।

    আর বাংলার মেধাকে কর্মসংস্থানের জন্য ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না। বর্ধমান থেকে পুরুলিয়া, রানীগঞ্জের কয়লা, পুরুলিয়ার খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদসহ এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠবে নতুন শিল্পভিত্তিক বাংলা। ইতিমধ্যেই সরকারের উদ্যোগে ২৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ এসেছে, যা আগামী দিনের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভর বাংলার দৃঢ় ভিত্তি হয়ে উঠবে।’

    ৪ মে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই শিল্প ও ব্যবসাকে বিশেষ গুরুত্ব  দিয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় সাংবাদিকদের সামনে সরাসরি জানিয়েছিলেন দরকারে শিল্পপতিদের পায়ে ধরতেও রাজি তারা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মন্ত্রীরা একাধিক শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাংলাতে বিনিয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাতে শুরু হচ্ছে একাধিক শিল্প। এমনকি বেশ কিছু কোম্পানি বাংলাতে নিজেদের ব্যবসা আরও বড় করার পরিকল্পনা করেছেন। আর সেই মতো বিনিয়োগ করেছেন। এবারে মনে করা হচ্ছে এই বিজনেস মিটের হাত ধরে বাংলাতে হয়তো শিল্পের খরা অনেকটাই কমবে। আর তা হলে সুবিধা হবে রাজ্যের যুবক-যুবতীদের। পাশাপাশি বদলাবে রাজ্যের অর্থনৈতিক কাঠামোর।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)