বাদল অধিবেশনে সংসদ চত্বরে নানা ছবি। কখনও প্রশ্নফাঁস নিয়ে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে এককাট্টা বিরোধী সাংসদরা, কখনও কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মশকরা। আবার কখনও তৃণমূলত্যাগীদের সঙ্গে তৃণমূলের সাংসদদের দেখা-সাক্ষাৎ, হাসিঠাট্টা। বৃহস্পতিবার সংসদে তৃতীয় ছবিটাই চোখে পড়ল। তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়ের সঙ্গে এক ফ্রেমে দেখা গেল এনসিপিআইয়ের দুই সাংসদ আবু তাহের ও খলিলুর রহমানকে! আর তাতেই শুরু হয়েছে নয়া জল্পনা। এই দুই সাংসদ নাকি তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন। যদিও এদিনও সংসদে দাঁড়িয়ে দু’জনই জানিয়েছেন, তাঁরা এনসিপিআইতেই রয়েছেন, এনডিএ-র শরিক হিসেবে। তবে জল্পনায় এত সহজে জল পড়ছে না।
আসলে সৌগত রায়ের সঙ্গে আবু তাহের ও খলিলুরের এই সাক্ষাতে লুকিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাতত্ত্ব। তৃণমূল ছেড়ে ২০ জন সাংসদের ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযুক্ত হয়নি। এর জন্য তাঁদের ১৯ জন সাংসদ প্রয়োজন। কিন্তু আবু তাহের বা খলিলুর রহমান এনসিপিআই ছেড়ে ফের তৃণমূলে ফিরলে সেই সংখ্যা কমে যাবে। ফলে সংসদে বিপাকে পড়বেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা। অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের তরফে আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা আবার এনসিপিআইয়ে যোগদানের জন্য পা বাড়িয়েছেন বলে পালটা দাবি কাকলিদের। সেক্ষেত্রে তাঁদের প্রয়োজনীয় সংখ্যা, ১৯ বজায় থাকবে। ফলে দলত্যাগ বিরোধী আইনে পড়তে হবে না।
আবু তাহের, খলিলুর রহমানকে পাশে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আবার সৌগত রায় দাবি করেছেন, শুধু এই দু’জন নন, এনসিপিআই থেকে আরও কয়েকজন সাংসদ নাকি তৃণমূলে ফিরতে চান। যদি তেমনই হয়, তাহলে এনসিপিআই সাংসদরা বেশ চাপে পড়বেন। তাঁদের সাংসদ পদও বাতিল হতে পারে। ফলে এই মুহূর্তে মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুরের সাংসদরা কোন শিবিরে, তার উপর নির্ভর করছে লোকসভার অঙ্ক। আর সেই অঙ্কই কষছে দুই শিবির।যদিও শিবিরে ভাঙন জল্পনা নিয়ে খবরাখবরের জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছে এনসিপিআই। ফেসবুক পোস্টে তাদের দাবি, এনিয়ে অযথা মিথ্যে খবর রটানো হচ্ছে।