একাধিক মামলায় রক্ষাকবচ অভিষেকের, ‘গ্রেপ্তার না করে তদন্তের নির্দেশ দিলে অসুবিধা?’, প্রশ্ন হাই কোর্টের
প্রতিদিন | ৩১ জুলাই ২০২৬
কলকাতা হাই কোর্টে স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর, কালীতলা, বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের হওয়ায় মামলায় কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ। অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রাজ্যে পালাবদলের পর অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হচ্ছে। সেবাশ্রয় থেকে বিভিন্ন দুর্নীতি, ডিজে মামলা থেকে বিধায়কদের সই জাল। একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা আসনে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অভিজিৎ দাস ওরফে ববিও অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই মামলাগুলিতে রক্ষাকবচ চান অভিষেক।
এ দিন মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে। পর্যবেক্ষণে বিচারপতি জানান, অনেক এফআইআর হয়েছে। একটার পর একটা মামলা না করে একটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। আদালত তদন্তকারীকে বাধা দেবে না। তবে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার সাত বছর পর মামলা দায়ের হয়েছে। এতদিন পর কীভাবে এফআইআর?
অভিষেকের আইনজীবী শংকরনারায়ণ আদলতে জানান, ৪ মের পর বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে প্রচুর এফআইআর হয়েছে। ২ মে অভিষেকের গুজরাটি গ্যাং মন্তব্যে ২৫ মে অভিযোগ দায়ের। এত দেরি কেন? তাঁর আরও অভিযোগ, অভিজিৎ দাস হেরেছেন দু’বার। সে এফআইআর করেছেন কয়েক বছর পর। অভিযোগকারী কোন ডকুমেন্টস ছাড়াই কিছু অভিযোগ করেছেন। অথচ তিনি জানিয়েছেন, জানেন না। শুধু স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই নিয়ে ফের এফআইআর হবে। তখন বিচারপতি জানান, ভবিষ্যতে কী হবে সেটা ভেবে কিছু আর্জি করবেন না। ভবিষ্যতের কথা ভেবে কোন নির্দেশ দেব না। শুধু দায়ের হওয়া এফআইআর নিয়ে কথা বলুন।
পালটা বলতে উঠে আইনজীবী তুষার মেহতা বলেন, একজনকে কেন বিশেষ ট্রিটমেন্ট দেওয়া হবে? আগাম জামিন নিক। বিচারপতি বলেন, “কোনও সাধারণ মানুষের এফআইআর এভাবে অনেকটা সময় পর হয় না। মামলাকারীকে গ্রেপ্তার না করে তদন্তের নির্দেশ দিলে কি অসুবিধা আছে? রাজ্য সরকারের আইনজীবী বলেন, “এফআইআর হয়নি কারণ অভিযুক্ত প্রভাবশালী ছিলেন।” সওয়া-জবাব শোনার পর বিচারপতি ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।” মামলার পরবর্তী শুনানি ৬ আগস্ট।