মর্মান্তিক! মাত্র ১০ টাকার জন্যই এক পরিবারে নেমে এল শোকের ছায়া...
News18 বাংলা | ৩১ জুলাই ২০২৬
মাত্র ১০ টাকার জন্যই এক পরিবারে নেমে এল শোকের ছায়া। সামান্য ১০ টাকা যে এত বড় বিপদ ঘনিয়ে আনবে ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি ওই পরিবারের কেউই। দুই বোন বা ভাই বোনের ছোটবেলা থেকে কিশোরী বয়সের ঝগড়া বা মারপিট এ যেন মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির চেনা ছবি। কিন্তু সেই চেনা ছবি হঠাৎই বদলে গেল করুণ পরিণতিতে। সামান্য জিনিস নিয়ে দুই বোনের ঝগড়া। আর সেখানে পরিবারের বড়রা এন্ট্রি নিতেই বয়ঃসন্ধির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এক বোন বেছে নিল মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত। আর মাত্র ১০ টাকার জন্যই ঝরে গেল একটি তরতাজা প্রাণ!
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক মহাকুমার চন্ডিপুর থানার অন্তর্গত বলিবাড় গ্রাম। এই গ্রামের বাসিন্দা শেখ হাবিব। পেশায় নির্মাণ শ্রমিক! বাড়িতে দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে অল্প রোজগারেই খুশি ছিল। কিন্তু এই স্বল্প রোজগেরে হাসিখুশি পরিবারেই মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ঘনিয়ে এল কালো ছায়া। ঐদিন সন্ধ্যাবেলা ওই পরিবারের দুই বোন মাত্র ১০ টাকা নিয়ে ঝগড়াঝাটি করছিল। এই ঝগড়া থামাতে দুই বোনকে বকাবকি করে পরিবারের লোকজন। তারপর রাতে খাওয়া দাওয়ার পর বড় বোন বছর ১৪-এর হাবিবা খাতুন, অভিমানে চুল রঙ করার রাসায়নিক খেয়ে নেয়। এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্তে ঝরে যায় প্রাণ।
আরও পড়ুন: জুন-জুলাইয়ে টাকা পেলেও অগাস্টে পাবেন তো অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০টাকা…? না পেলে কী করবেন! জানুন সরকারি নিয়ম
এই ঘটনার পর শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মনোবিদ সৈরিন্ধ্রী পড়ুয়া বলেন, “বর্তমানে অনেক পরিবারেই সন্তানদের আবেগ, মানসিক চাপ, দুঃখ-কষ্ট কিংবা আত্মসম্মানের বিষয়গুলিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে ছোটখাটো আঘাত বা অপমানও অনেকের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে অনেক সময় শিশুরা ভুল তথ্য ও ভুল প্রভাবের মধ্যে চলে যায়। বাস্তব সমস্যার মোকাবিলা করার মানসিক সক্ষমতা বা ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট স্কিল’ গড়ে না ওঠায় তারা অনেক সময় আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাবিবা খাতুন এদিন রাত প্রায় ১২টার নাগাদ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চণ্ডীপুরে এড়াশাল ব্লক প্রাথমিক নিয়ে যায়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তমলুকের তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করলেও তার মৃত্যু হয়। এদিন বিকেলে ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চণ্ডীপুর থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা রজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।