• পর্যটক হেল্পলাইনের তৎপরতায় মিলল হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ-সহ ব্যাগ, শিলিগুড়ি ট্র্যাফিক পুলিশ
    News18 বাংলা | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • মুহূর্তের অসাবধানতায় বাসেই ফেলে এসেছিলেন ল্যাপটপ-সহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ভর্তি একটি ব্যাগ। ভেবেছিলেন হয়তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। কিন্তু মাত্র একটি ফোন কলেই বদলে যায় পরিস্থিতি। শিলিগুড়ি ট্র্যাফিক পুলিশের দ্রুত তৎপরতা ও পর্যটক হেল্পলাইনের সক্রিয় ভূমিকার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই উদ্ধার হয় হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ। নিজের মূল্যবান সামগ্রী ফিরে পেয়ে শিলিগুড়ি ট্র্যাফিক পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দিল্লির বাসিন্দা সায়ন্তন পাল ও তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতা বর্মন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সায়ন্তন পাল ও অনিন্দিতা বর্মন আলিপুরদুয়ারে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। সফর শেষ করে তাঁরা সড়কপথে বাগডোগরা বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন, সেখান থেকে দিল্লি ফেরার কথা ছিল তাঁদের। যাত্রাপথে একটি বাসে ওঠার সময় ল্যাপটপ, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখা ব্যাগটি বাসের বাঙ্কারে রেখে দেন। কিন্তু নির্ধারিত গন্তব্যে নেমে যাওয়ার সময় ব্যস্ততার মধ্যে সেটি বাসেই থেকে যায়।

    বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে ব্যাগটি সঙ্গে নেই বুঝতে পেরে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান ওই দম্পতি। ব্যাগে থাকা ল্যাপটপের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়ায় তাঁদের সফরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। সেই অবস্থায় তাঁরা অবিলম্বে শিলিগুড়ি ট্র্যাফিক পুলিশের পর্যটক হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে পুরো ঘটনার কথা জানান এবং প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরেন।

    আরও পড়ুন: জুন-জুলাইয়ে টাকা পেলেও অগাস্টে পাবেন তো অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০টাকা…? না পেলে কী করবেন! জানুন সরকারি নিয়ম

    অভিযোগ পাওয়ার পরই শিলিগুড়ি ট্র্যাফিক পুলিশের আধিকারিকরা দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বাসের রুট, সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যাগটির সন্ধান শুরু হয়। সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাগটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে সমস্ত তথ্য যাচাই করে ট্র্যাফিক বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার কাজী শামসুদ্দিন আহমেদের উপস্থিতিতে ব্যাগটি নিরাপদে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন সায়ন্তন পাল ও অনিন্দিতা বর্মন। তাঁরা বলেন, অপরিচিত শহরে এমন পরিস্থিতিতে পড়ে তাঁরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু শিলিগুড়ি ট্র্যাফিক পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ, আন্তরিক সহযোগিতা এবং পেশাদারিত্ব তাঁদের আস্থা ফিরিয়ে দিয়েছে। পুলিশের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য তাঁরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে শিলিগুড়ি ট্র্যাফিক পুলিশের পর্যটক হেল্পলাইন যে কার্যকরভাবে কাজ করছে, এই ঘটনাই তার আরও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। পুলিশের এই উদ্যোগে শুধু হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান সামগ্রীই উদ্ধার হয়নি, বরং পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তাও আরও জোরালো হয়েছে।

    ঋত্বিক ভট্টাচার্য
  • Link to this news (News18 বাংলা)