• উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে মর্গে মৃতদেহ রাখতে টাকা! তদন্তে কমিটি
    এই সময় | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃতের পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গড়ল রোগী কল্যাণ সমিতি। বৃহস্পতিবার রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন রাজ্যের অর্থ ও পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। তিনিই রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান। মন্ত্রী বলেন, 'উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে আর কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। অধ্যক্ষকে আইন মেনে প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।'

    অনিয়মের চূড়ান্ত চলছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। মর্গের কর্মীদের একাংশ রোগীর পরিবারের কাছ থেকে নানা ভাবে টাকা চেয়ে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ। কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানালেও সুরাহা মিলছে না বলে অভিযোগ। সোমবার রাতে জলপাইগুড়িতে পথ দুর্ঘটনায় জখম হয়ে মারা যান বীরেন রায় (৪২) নামে এক ব্যক্তি। রাতেই দেহ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। মঙ্গলবার পরিবারের লোকেরা দেহ নিতে এলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া মেটাতে গিয়ে ময়নাতদন্তের সময় শেষ হয়ে যায়। ঠিক হয়, বুধবার ময়নাতদন্ত হবে।

    পরিবারের লোকেরা দেহ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রেখে যেতে চান। সেই সময়ে কর্মীদের একাংশ বীরেন রায়ের পরিবারের কাছ থেকে দেহ রাখা বাবদ আড়াই হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। তা নিয়ে এমন বিবাদ শুরু হয় যে, মৃতের পরিবার রাতেই দেহ নিয়ে জলপাইগুড়িতে ফিরে যেতে চান। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে কর্মীরা দেহটি মর্গে রেখে দিতে সম্মত হন।

    সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এই ঘটনা জানাজানি হতে নড়েচড়ে বসেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। মর্গ নিয়ে অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। সপ্তাহ দুয়েক আগে এমনই এক ঘটনায় দার্জিলিংয়ের এক পরিবারের কাছেও মর্গের কর্মীদের একাংশ টাকা চান বলে অভিযোগ। পরিবারটি দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তের কাছে অভিযোগ জানান। সাংসদের হস্তক্ষেপে সমস্যা মিটলেও ঘটনার তদন্ত হয়নি। কারও বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ।

    গত বছর অক্টোবরে নকশালবাড়িতে আত্মঘাতী হন শিবা রায় (৩৩) নামে এক যুবক। সে দিনই পুলিশ দেহটি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে নিয়ে যান। অভিযোগ, ময়নাতদন্তের জন্য মর্গের কর্মীরা দশ হাজার টাকা চান। সমাজকর্মী গণেশ পাহান শিবার দেহ আনতে মর্গে গিয়েছিলেন। তাঁর কাছে হাজার টাকা ছিল। তিনি সেই টাকা দিতে চাইলে মর্গের কর্মীরা ফিরিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশি হস্তক্ষেপে সমস্যা মিটলেও গণেশ মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গণেশ মর্গের চার কর্মীকে শনাক্ত করেন। তার পরেও কোনও ব্যবস্থা হয়নি।

    এ দিন রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে আসেন গণেশ পাহান। তিনি বলেন, 'গরিবের তো দেখছি মরেও রেহাই নেই। মর্গের কর্মীরা যে ভাবে গরিব মানুষের উপরে অত্যাচার করছে তার বিহিত চাই।' এ নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সুজয় মিস্ত্রি বলেন, 'গণেশ পাহানকে লিখিত অভিযোগ জানাতে বলেছি। তার পরেই রোগী কল্যাণ সমিতির সিদ্ধান্ত মেনে তদন্ত কমিটি তৈরি করা হবে।' এ দিন বৈঠকে হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি বিভাগ, ক্যান্সার ইউনিট এব ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব তিন সহকারী সুপারের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

  • Link to this news (এই সময়)