কলকাতা রওনা হলেন তসলিমা, লাল পাড়, সাদা শাড়িতে 'দ্বিখণ্ডিত' স্রষ্টা
আজ তক | ৩১ জুলাই ২০২৬
এপার বাংলার উদ্দেশে রওনা হলেন ওপার বাংলার নির্বাসিত লেখিকা। ১৮ বছর ৮ মাস ১০দিন পর কলকাতায় পা রাখতে চলেছেন তসলিমা নাসরিন। লাল পাড় সাদা শাড়িতে যাত্রা শুরুর সময়ের একটি ছবিও পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। শনিবার, ১ অগাস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে তাঁর একটি বই উদ্বোধন হবে। শহরজুড়ে ইতিমধ্যেই ছেয়ে গিয়েছে তসলিমার পোস্টার।
রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজক ওসমান গনি মল্লিকের সেক্যুলার মিশন। সেখানেও যোগ দেবেন বাংলাদেশি এই সাহিত্যিক।
২০০৭ সালে তসলিমার ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কলকাতা। কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে তাঁর লেখণী একাধিক সংখ্যালঘু এলাকায় অশান্তিকে ইন্ধন জুগিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে, তা সামাল দিতে সেনা নামাতে হয়েছিল তৎকালীন বাম সরকারকে।
বামমনস্ক সাহিত্যিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সে সময়ের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তসলিমা নাসরিনের 'দ্বিখণ্ডিত' উপন্যাসটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সেই তালিকায় ছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষের মতো ব্যক্তিত্বরা। কলকাতা ছাড়তে বলা হয় তাঁকে। এই ঘটনা বাংলার সাহিত্য জহতে নিঃসন্দেহে এক নজিরবিহীন অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
তবে এবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন BJP সরকার তসলিমাকে ফিরিয়ে আনল। কয়েকদিন আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কিছু ছবি শেয়ার করেন লেখিকা। গড়িয়াহাট, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে টাঙানো নিজের সুবিশাল হোর্ডিং দেখে আপ্লুত হন তিনি। লেখেন, 'রাতের কলকাতা। আজ থেকে ১২ বছর আগে মেগাসিরিয়াল দুঃসহবাসের গল্প লিখেছিলাম বলে দুঃসহবাসের সব হোর্ডিং খুলে দেওয়া হয়েছিল। দুঃসহবাসের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আজকের এই নতুন হোর্ডিং খুলে নেওয়া হচ্ছে না। বাক স্বাধীনতার জয় এখানেই।'
তবে শুধু এপার বাংলা নয়। তাঁর নিজের দেশও দেশছাড়া করেছিল তসলিমাকে। সময়টা ১৯৯৪ সালের ৮ অগাস্ট। আর পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর। ২০১১ সালের পর যদিও দিল্লিতে পাকাপাকি ভাবে থাকার অনুমতি পান তসলিমা। তবে বরাবরই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে এক আত্মিক টান অনুভব করেন তিনি। কলকাতায় এলেই বুকের মধ্যে দেশভাগের এক তীব্র যন্ত্রণা জেগে ওঠে, এমনটা বারবার বলেছেন।
তসলিমা বলেছেন, 'আমার হৃদয়ে কোনও কাঁটাতার নেই।' তবে কি কলকাতায় স্থায়ী ভাবে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে তললিমার? লেখিকা যদিও সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার জানিয়েছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে থাকতে চান না। দিল্লিতে তিনি ভালই রয়েছেন।