• কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠ যাবেন? কম টাকায় কোথায় থাকবেন, খাবেন? কীভাবে কম সময়ে পুজো দেওয়া সম্ভব?
    News18 বাংলা | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • সাধক বামদেবের অন্যতম তীর্থভূমি তারাপীঠ মা তারার মন্দির বীরভূম জেলার এই তারাপীঠ মন্দির কোনও সতীপীঠ নয় বরং এটি একটি সিদ্ধপীঠ। ভক্তদের বিশ্বাস এই তারাপীঠ মা তারার মন্দিরে এসে কোনও মনস্কামনা করলে মা তারা স্বয়ং সেই মনস্কামনা পূর্ণ করেন। আর সেই কারণেই প্রত্যেকদিন বহু দূর দুরান্ত থেকে পর্যটকেরা মা তারার দর্শনের জন্য ছুটে আসেন। দ্বারকা নদীর জল মাথায় নিয়ে মন্দিরে গিয়ে মা তারার পুজো করেন ফুল, ফল, মালা দিয়ে। ভক্তরা নিজের মনের মনষ্কামনা জানান মায়ের কাছে।

    তবে বছরের অন্যান্য দিন হাজার হাজার পর্যটকদের সমাগম হলেও বছরের একটি মাত্র দিন সেই দিন তারাপীঠ মন্দির চত্বরে প্রায় লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে। আর সেই দিনটি হচ্ছে ভাদ্র মাসের কৌশিক আমাবস্যা। সেই দিন দূর দূরান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত মায়ের কাছে মনষ্কামনা নিবেদন করেন। কথিত আছে ও ভক্তদের বিশ্বাস সাধক বামাক্ষ্যাপা, ১২৭৪ বঙ্গাব্দে কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠ মহাশ্মশানে শ্বেতশিমূল বৃক্ষের তলায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।

    এই তিথিতে কৌশিকী রূপে মা তারা বিশেষ সন্ধিক্ষণে, শুম্ভ- নিশুম্ভ নামক অসুরদের দমন করেছিলেন। সেই নাম থেকেই ‘কৌশিকী অমাবস্যা’ নামটি এসেছে। মা তারা হলেন দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয় মহাবিদ্যা। কৌশিকী তারই আরেক রূপ। আর চলতি বছর ভাদ্র মাসের কৌশিক আমাবস্যার তিথি পড়েছে ২৩ ভাদ্র। সেই দিন সকাল ১০:১০ মিনিট থেকে পরের দিন অর্থাৎ ২৪ ভাদ্র সকাল ৮টা৫০ মিনিট পর্যন্ত এই তিথি থাকবে। বাংলার ২৩ ভাদ্র হচ্ছে ইংরেজির ১০ সেপ্টেম্বর। আর এই দিন যেহেতু ভক্ত সমাগম হয় লক্ষ লক্ষ সেই কারণে হোটেল ভাড়া থাকে তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি। আর সেই কারণেই বহু পর্যটক এই তিথিতে তারাপীঠ ভ্রমণ করতে আসবো ভেবেও আসতে পারেন না।

    তবে আজকে আপনাদের ঠিকানা দেবো এমন বেশ কয়েকটি জায়গার যেখানে তারাপীঠে এসে অল্প টাকায় রুম ভাড়া করে থাকতে পারবেন। আপনি তারাপীঠ ব্রিজ পৌঁছে সেখানে যে কাউকে জিজ্ঞেস করুন মুন্ডমালিনি তলার রাস্তায় ভারত সেবাশ্রম যাবেন কোন দিকে। সেখানে গিয়ে আপনি খুব অল্প টাকার বিনিময়ে রাত্রি বাস করে নিতে পারেন। এছাড়াও ওই রাস্তা দিয়ে আপনি একটু গলির ভেতর গেলেই বিভিন্ন ছোট বড় হোটেল পেয়ে যাবেন। যেহেতু হোটেলগুলি একটু ভেতর দিকে সেই কারণে সেই হোটেলের ভাড়া অন্যান্য হোটেলের থেকে অনেকটাই কম। তাছাড়াও আপনি মন্দির থেকে কিছু দূরে তিনমাথার রাস্তা দিয়ে গেলেও যৎসামান্য টাকার বিনিময়ে থাকতে পারেন। এর থেকেও যদি কম বাজেটের মধ্যে থাকতে হয় তাহলে আপনি রামপুরহাট স্টেশন থেকে সোজা পৌঁছে যান রামপুরহাট বাস স্ট্যান্ড। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মোট তিন চারটি হোটেল রয়েছে সেগুলিতেও আপনি রাত্রিবাস করতে পারেন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)