• ১৩ হাজার প্রজাতির মথ-প্রজাপতি ভারতে, জীববৈচিত্র গবেষণায় ঐতিহাসিক সাফল্য
    এই সময় | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও প্রাণিবিজ্ঞান গবেষণায় ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের অধীনস্থ জ়ুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (জ়েডএসআই) ১২ বছরের নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার পরে দেশের প্রজাপতি ও মথ–জাতীয় পতঙ্গ (লেপিডপটেরা)-এর প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় তালিকা বা ‘ক্যাটালগ অফ লেপিডোপ্টেরা অফ ইন্ডিয়া’ প্রকাশ করল। একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শ্রেণিবিন্যাস সংক্রান্ত তথ্যকে একত্রিত করে তৈরি এই সংকলন আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র গবেষণায় ভারতের অবস্থানকে আরও মজবুত করল।

    জ়েডএসআই-এর বিজ্ঞানী নভনীত সিং ও রাহুল যোশীর নেতৃত্বে এই প্রকল্পে ফিল্ড সার্ভে, বিভিন্ন জাদুঘরে রাখা সংগ্রহের পুনর্মূল্যায়ন এবং বিপুল বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণের কাজ চলছিল টানা ১২ বছর ধরে। শেষ পর্যন্ত ২২ খণ্ডের এই বিশাল সঙ্কলনের শেষ খণ্ডটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানপত্রিকা ‘জ়ুট্যাক্সা’–তে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি ভারতের পতঙ্গবৈচিত্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক তথ্যভাণ্ডার।

    নতুন এই তালিকা অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে প্রজাপতি ও মথ–জাতীয় পতঙ্গ মিলিয়ে লেপিডপটেরা–র ১৩,৭০৩টি প্রজাতি রয়েছে। এগুলো ৩,৭০৫টি গণ (জেনাস), ২৪০টি উপপরিবার (সাব–ফ্যামিলি), ১০২টি পরিবার (ফ্যামিলি) এবং ৩১টি সুপারফ্যামিলির অন্তর্গত। বিশ্বের পরিচিত লেপিডপটেরা প্রজাতির প্রায় ৮.২৫ শতাংশই ভারতের ভূখণ্ডে পাওয়া যায়।

    জ়েডএসআই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে জিওমেট্রোয়েডিয়া সুপারফ্যামিলির পতঙ্গ নিয়ে তৈরি পৃথক ক্যাটালগটি। এই গোষ্ঠীর ২,২০৫টি প্রজাতি, ৪৭৯টি গণ, ১৩টি উপপরিবার ও চারটি পরিবারের অস্তিত্ব ভারতে নথিভুক্ত হয়েছে। বিশ্বের জিওমেট্রোয়েডিয়া প্রজাতির প্রায় ৮.৮০ শতাংশই ভারতে পাওয়া যায়।

    জ়েডএসআই-এর অধিকর্তা ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই ক্যাটালগগুলি দেশের জীববৈচিত্র গবেষণা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ পদ্ধতির এক অমূল্য সম্পদ। এর মাধ্যমে প্রতিটি প্রজাতি একটি স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক পরিচয় ও সংরক্ষণমূলক গুরুত্ব পাবে।’

    বিজ্ঞানীদের মতে, প্রজাপতি ও পতঙ্গ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় তাদের ভূমিকা অপরিসীম। তারা গুরুত্বপূর্ণ পরাগবাহক, উদ্ভিদভোজী ও জৈব পদার্থের অবক্ষয়কারী হিসেবে কাজ করে। পাখি, বাদুড়–সহ অসংখ্য প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খলের অপরিহার্য অংশ তারা।

  • Link to this news (এই সময়)