• ‘জনতার দরবারে’ হকের ফ্ল্যাট ফেরত পেয়ে শুভেন্দুকে মিষ্টিমুখ বৃদ্ধের, দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেন মুখ্যমন্ত্রী
    এই সময় | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিয়েই শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর সরকার চলবে, ‘কথা কম, কাজ বেশি’ নীতিতে। হাতেনাতে সেই নীতির সুফল পেয়ে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে এসে তাঁকে মিষ্টি খাইয়ে গেলেন ভবানীপুরের ৮১ বছরের বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায়। মুখ্যম‍ন্ত্রীও হাসি মুখে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন। শুভেন্দুকে বুকে টেনে নিলেন বৃদ্ধ। তারপর সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে ভবানীপুরের বৃদ্ধ মুখ্যমন্ত্রীকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়ে বলে‍‍‍ন, ‘সমস্যা থাকলে প্রত্যেকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’–এ আসুন। আমি বিচার পেয়েছি। সকলেই জাস্টিস পাবেন।’

    গত ২৫ মে সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এ এসেছিলেন প্রবীর মুখোপাধ্যায়। অসাধু প্রোমোটার চক্রের কবলে পড়েছিলেন ভবানীপুরের ওই বৃদ্ধের পরিবার। ঠাঁই হয়েছিল ভাড়া বাড়িতে। প্রমোটার জয় কামদারের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। প্রমোটারকে বার বার ফ্ল্যাটের দাবি জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। বরং জুটেছিল হুমকি। বৃদ্ধ প্রবীরের মাথায় বন্দুক ঠেকানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ।

    এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় প্রশাসনিক অ্যাকশন। প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের ভাড়া বাড়িতে যান ইডি-র আধিকারিকরা। প্রমোটারের সঙ্গে তাঁর চুক্তির কাগজ খতিয়ে দেখে ইডি আধিকারিকরা পদক্ষেপ করেন। সম্প্রতি হকের ফ্ল্যাট ফিরে পেয়েছেন ভবানীপুরের বৃদ্ধ। বৃহস্পতিবার শুভেন্দুকে ধন্যবাদ জানাতে ফুল আর মিষ্টি নিয়ে ‘জনতার দরবার’–এ হাজির হয়েছিলেন তিনি। তাঁকে দেখে মুখ্যম‍ন্ত্রী নিজেই এগিয়ে এসে প্রণাম করেন। প্রবীরের আনা মিষ্টি চেখেও দেখেন শুভেন্দু।

    এ দিন, মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’–এ যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দোকান দখলের মতো অভিযোগ তোলেন প্রতিমা রায় নামে এক মহিলা। তাঁর দাবি, গত ৩০ বছর ধরে তাঁরা শাড়ি ও জামাকাপড়ের একটি দোকান চালাচ্ছেন। কিন্তু গত ১২ জুন রাতের অন্ধকারে তাঁদের সেই দোকানটি দখল করে নেওয়া হয়। ওই মহিলার অভিযোগ, বিধায়ক নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর দুই শাগরেদকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছেন। তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শর্বরী।

    সংবাদমাধ্যমে তাঁর উল্টো দাবি, ‘অভিযোগকারী মহিলা সম্পূর্ণ অসত্য বলছেন। উনি সাব-টেনান্ট হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দোকানটি বেআইনি ভাবে আটকে রেখেছেন। মূল দোকানের মালিক আমার কাছে সাহায্য চাইলে দলের কর্মীরা মধ্যস্থতা করে দোকান ছাড়তে বলেন। কোনও দখলদারি হয়নি।’ একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে মানুষকে সঠিক বিচার দিতে, দখলদারি প্রশ্রয় দিতে নয়। আমি মুখ্যমন্ত্রীর ওপর সম্পূর্ণ আস্থাশীল। উনি জানতে চাইলে সব তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরব।’

  • Link to this news (এই সময়)