Big Breaking: বহুদিন ধরে চলছিল খোঁজ। অবশেষে বর্ধমানের জনবহুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হলো কাশ্মীরের এক জঙ্গিকে। সূত্রের খবর, ধৃত জঙ্গি জৈশ-ই-মহম্মদের সদস্য। নাম হামিদ মণ্ডল। তাকে শুক্রবার সকালে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজ়িং থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেঙ্গল STF সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপরে হামলার ছক কষছিল সে। এদিনই হামিদকে বর্ধমান আদালতে হাজির করানো হবে বলে খবর।
এ দিন সকালে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বর্ধমানের অভিজাত আবাসন ‘রেনেসাঁ কমপ্লেক্স’-এ অভিযান চালিয়ে জৈশ-ই-মহম্মদ গোষ্ঠীর সদস্য হামিদকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল STF। সূত্রের খবর, সেই সময়ে ঘরের মধ্যে ব্যায়াম করছিল অভিযুক্ত। সূত্রের দাবি, হামিদের সঙ্গে ওই ঘরে আরও একজন ছিল। বর্তমানে সে পলাতক। তার খোঁজে চলছে অনুসন্ধান। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাসখানেক ধরেই ওই আবাসনে ভাড়ায় থাকছিল সে।
STF সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধিতে নজর রাখছিল হামিদ। নিউ টাউনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ফ্ল্যাটের অনতিদূরেও ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল সে। এ ছাড়া প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ, সরকারের যাবতীয় গতিবিধি, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি, কোন গাড়িতে তিনি যাচ্ছেন, তিনি কখন গাড়িতে উঠবেন, গাড়ি কতদূর যাবে, গাড়ির চালক কে, কোথায় পার্কিং করা হবে, এই সংক্রান্ত যাবতীয় গোপনীয় তথ্য ওই জঙ্গির হাতে ছিল। যা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
সূত্রের খবর, হাওড়া পিলখানার বাসিন্দা ছিল হামিদ। একটি গেঞ্জির কারখানায় কাজ করতো। দুই মাস আগে বর্ধমান গিয়েছিল। পাকিস্তান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছিল। আইএসআই (ISI) হ্যান্ডলার হিসাবে কাজ করছিল। নিয়মিত যোগাযোগ ছিল পাক গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে। কারা নিউ টাউন ও বর্ধমানে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছিল জঙ্গি সন্দেহভাজন হামিদকে, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ দিকে ধৃতের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডলের দাবি, ‘পুলিশ ছেলের খোঁজে এসেছিল। জানিয়েছিল, কোনও মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়ে ছেলেকে খুঁজছে। এখন জঙ্গিযোগের কথা বলছে। পুরোটা এখন সাজাচ্ছে পুলিশ।’ মনিরুদ্দিন জানিয়েছেন, কখনও কলকাতা, কখনও বর্ধমানের বাড়িতে থাকেন তিনি। আলু-পেঁয়াজের কারবার করেন তিনি। হামিদের গ্রেপ্তারির খবরে পুলিশের তরফে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বেঙ্গল STF বর্ধমানের রেনেসাঁ কমপ্লেক্স থেকে হামিদ মণ্ডল নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তিনি জৈশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত এবং মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে তদন্ত চলছে। অভিযোগগুলির প্রমাণ হওয়া এখনও বাকি।
STF সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপরে নজর রাখছিল এবং তাঁর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছিল। এই দাবি তদন্তাধীন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় ঘরে আরও একজন ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তবে তিনি বর্তমানে পলাতক এবং তাঁর খোঁজ চলছে।
অভিযুক্তের বাবা দাবি করেছেন, প্রথমে পুলিশ অন্য একটি বিষয়ে ছেলেকে খুঁজছিল। পরে জঙ্গি-যোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি তাঁর ব্যক্তিগত দাবি; তদন্তকারী সংস্থা এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।
পুলিশ অভিযুক্তের পরিচয়, সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। কিছু সূত্রে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয়।