‘এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই...’ উত্তরবঙ্গের চায়ের নিজস্বতা আনতে বড় ব্র্যান্ডিং ভাবনা শঙ্কর ঘোষের
News18 বাংলা | ৩১ জুলাই ২০২৬
‘এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই…।’ এই গান আজও জনপ্রিয় সমানভাবে। এবার উত্তরবঙ্গের চা-কে আলাদা ব্র্যান্ডিং করে আরও জনপ্রিয় করতে চলেছে নতুন সরকার। তৃণমূল সরকারের আমলে ‘চায়ে পে চর্চা’ অনেক হয়েছে। তবে হাল ফেরেনি উত্তরবঙ্গের চা শিল্প বা চা শ্রমিকদের। নতুন সরকারের হাত ধরে উত্তরের পর্যটন মানচিত্রে এবার চা- কে বিশেষ জায়গা দিতে তৈরি করা হচ্ছে অ্যাকশন প্ল্যান ৷ চা বাগান থেকে চা শ্রমিকদের উন্নয়নে এবার উত্তরবঙ্গের ‘চা’-কে এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ডিং করতে বড় পরিকল্পনা পর্যটন দফতরের।
আরও পড়ুন– জীবন মানেই ওঠাপড়া… রতন টাটার এই ১০টি কথা সবার পড়া উচিৎ, কঠিন সময়ে এগিয়ে চলার সাহস দেবে
শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের কথায়, ‘‘যেমন কলকাতার কথা এলেই গঙ্গা, হাওড়া ব্রিজ কিংবা ভিক্টোরিয়ার ছবি সামনে আসে। সুন্দরবনের কথা হলেই চোখের সামনে বাঘ, ম্যানগ্রোভ দেখা যায়, ঠিক তেমনি দার্জিলিঙের কথা উঠলেই পাহাড় আর চা বাগানকে আমরা দেখতে পাই। ঠিক একই ভাবে এবার উত্তরবঙ্গের চা শিল্প ও টি ট্যুরিজমকে উন্নত করতে নানান ভাবনা আমরা এবার বাস্তবায়িত করব।’’
ফ্রান্সের বিভিন্ন জায়গার ওয়াইন ব্র্যান্ডিং-এর ধাঁচে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এবার দার্জিলিং, ডুয়ার্স-সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের আলাদা আলাদা চা -বলয়ের বাগানের চা-কেও আরও জনপ্রিয় করে তুলতে নানান ধরনের ঢালাও প্রচারেরও উদ্যোগ নিচ্ছে পর্যটন দফতর। পাহাড়, জঙ্গলের সঙ্গে সঙ্গে উত্তরবঙ্গের মুকুটে এবার যুক্ত হতে চলেছে ‘চা’। মূল লক্ষ্য, চা – বাগান থেকে শুরু করে চা শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য। মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এও বলেন,‘‘অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের পাশাপাশি চা বাগান, জমি সমস্যা আমাদের সরকারের মানবিক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আজ নতুন দিশা পেয়েছে। রাজ্যের বর্তমান আর্থিক অবস্থা আমাদের সকলেরই জানা। তবে যেহেতু এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার তাই এবার কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতায় আমরা উত্তরবঙ্গের চা শিল্প এবং চা ট্যুরিজমকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যাব।’’
আরও পড়ুন- তৃণমূল জমানায় উত্থান, গৃহ শিক্ষক থেকে বালি মাফিয়া…‘পাথর সম্রাট’ টুলু মণ্ডলের কাহিনি
শুধুমাত্র দার্জিলিং টি নয়, সমগ্র উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের চা-কেই এবার আলাদা আলাদা নিজস্বতা দেওয়ার ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছেন তাঁরা বলেও জানান শঙ্কর ঘোষ। যদিও বাস্তবায়নের বৃত্ত সম্পূর্ণ হতে সময় লাগলেও তাঁরা যে আর তৃণমূল আমলের মত শুধু ‘চায়ে পে চর্চাই’ করে যাবেন, সে পথে না হেঁটে এবার ‘চায়ে পে চর্চা’-র মাধ্যমে চা শিল্প ও চা শ্রমিকদের পুনরুজ্জীবন ঘটানোর সঙ্গে সঙ্গে উত্তরবঙ্গের চা-কে বিশ্বের দরবারে আরও জনপ্রিয় করতেও যে বদ্ধপরিকর তাঁর সরকার, সে কথাও স্পষ্ট জানালেন শঙ্কর ঘোষ।