• জেলায় সেঞ্চুরি পার ডেঙ্গির, সুস্থ থাকতে মানুন এইসব 'টিপস'! আর আশপাশে ঘেঁষবে না মশা
    News18 বাংলা | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • এখানে ডেঙ্গির ‘সেঞ্চুরি’, হটস্পট এই স্থান! পরিস্থিতি সামলাতে কড়া অ্যাকশনে রাজ্য ও জেলার বিশেষজ্ঞ টিম। বর্ষার মরসুম শুরু হতেই জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গির উদ্বেগজনক দাপট। স্বাস্থ্য দফতরের উদ্বেগ বাড়িয়ে ইতিমধ্যেই জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০০-র গণ্ডি পার করে ফেলেছে। বিশেষ করে মাটিয়ালী ব্লকের বাতাবাড়ি ও তার সংলগ্ন এলাকায় লাগাতার ডেঙ্গির হদিস মিলতে থাকায় রীতিমতো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই এবার আদা-জল খেয়ে মাঠে নেমে পড়েছে ব্লক প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

    জেলার বিভিন্ন স্কুলে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে জোরদার সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনের পাঠক্রমের পাশাপাশি বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের বোঝানো হচ্ছে এই মশাবাহিত রোগগুলির কারণ, লক্ষণ এবং প্রতিরোধের উপায়। শিক্ষকরা ছবি, উদাহরণ ও সহজ ভাষার সাহায্যে খুদেদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন, কোথায় কীভাবে জল জমে মশার জন্ম হয় এবং কেন সেই জল জমতে না দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুধু পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বাস্তব অভ্যাস গড়ে তুলতেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    বাড়ি ও স্কুলের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, টব, টায়ার বা খোলা পাত্রে জল জমতে না দেওয়া, নিয়মিত জল ফেলে দেওয়া, এই সব বিষয় হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে পড়ুয়াদের। পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে এই বার্তা ঘরে ঘরেও পৌঁছয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা খুব জরুরি। কোথাও জম জমতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি মশারির ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজন দিনেও। এছাড়াও শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো মশারোধক ক্রিম ব্যবহার করতে পারলে ভাল। জ্বর হলে কোনওভাবেই অবহেলা করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ চলতে হবে। তাহলেই এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

    উল্লেখ্য, ডেঙ্গির প্রকোশ কমাতে কোথাও যাতে জমা জল না থাকে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে জেলার চা বাগান অঞ্চলগুলিতে। খুদেদের নিরাপত্তার খাতিরে সব ছাত্রছাত্রীদের হাত-পা ঢাকা পোশাক পরেই স্কুলে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার জানান, “বর্ষায় ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে বলেই আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছি। ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রশাসনিক ও চিকিৎসাগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।” তবে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ নিজের বাড়ি ও চারপাশ জলমুক্ত রাখার বিষয়ে সচেতন না হলে এই মশার দাপট পুরোপুরি উপড়ে ফেলা কঠিন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)