• উন্নয়নের 'নয়া মডেল', দুশ্চিন্তা কী? জানে না এই গ্রাম! কোন ফর্মুলায় আসছে এত সুখ? জানুন
    News18 বাংলা | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • রাজনৈতিক দল কিংবা প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে নয়, নিজেদের শক্তিতেই বদলে যাচ্ছে একটি গ্রাম। পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের খেয়াইবান্দা গ্রামে উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি গ্রামবাসীরাই। রাস্তা সংস্কার, কমিউনিটি হল নির্মাণ, দাতব্য চিকিৎসালয়, বিনামূল্যে কোচিং সেন্টার, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সবই হচ্ছে গ্রামের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে। প্রায় ১৫ বছর ধরে এই মডেলেই এগিয়ে চলেছে গ্রামের উন্নয়ন।

    গ্রামবাসী গৌতম ঘোষ বলেন, কোনও রাজনৈতিক দল আমাদের বিরোধিতাও করে না, কেউ আমাদেরকে সাহায্যও করে না। পরবর্তীকালে কী হবে জানি না। এর পূর্ববর্তী ১৫ বছরে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই সব নিয়ে মতানৈক্যও হয় নি, কেউ আসেও নি। ঠিক আছে, এরকমভাবেই। এখন বর্তমানে দেখা যাক।” এই গ্রামের প্রায় প্রত্যেক পরিবারেরই নিজস্ব চাষের জমি রয়েছে। তবে তার পাশাপাশি গ্রামের একটি বড় জমিতে প্রতি বছর যৌথভাবে চাষ করেন প্রায় সকল গ্রামবাসী। সেই জমি থেকে যে আয় হয়, তার একটি টাকাও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় না।

    তাঁর কথায়, পুরো অর্থ ব্যয় করা হয় গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজে। রাস্তা মেরামত, পুকুরের পাড় সংস্কার, পানীয় জলের সমস্যা সমাধান, অসহায় মানুষের চিকিৎসা কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা, সবই হয় এই যৌথ তহবিল থেকে। গ্রামবাসী তথা চাষি বুদ্ধদেব পাল বলেন, “চাষটা আমরা গ্রামের সকলেই মিলে করি। যেমন কমিউনিটি হলের বিভিন্ন কাজকর্ম করা হয়, কোনও ব্যক্তি অসুস্থ হলে তাঁকে সাহায্য করা হয়। সম্প্রত আবার কোচিং সেন্টার খোলা হয়েছে। আবার সকলের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে চিকিৎসকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    শুধু যৌথ চাষের আয়ই নয়, কর্মসূত্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কিংবা বিদেশে থাকা গ্রামের বাসিন্দারাও নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা করেন এই কাজে। সেই অর্থেই তৈরি হয়েছে একটি বড় কমিউনিটি হল। সেখানেই চলছে বিনামূল্যের দাতব্য চিকিৎসালয়, কোচিং সেন্টার এবং গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। কোনও পরিবারে মৃত্যু বা অসুস্থতার খবর পেলেই স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে পাশে দাঁড়ান গ্রামের যুবকেরা। উন্নয়নের প্রশ্নে যেখানে প্রায়শই রাজনৈতিক তরজা সামনে আসে, সেখানে খেয়াইবান্দা দেখিয়ে দিয়েছে অন্য এক পথ। এখানে ভরসা কোনও প্রতিশ্রুতিতে নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা, আত্মনির্ভরতা আর সামাজিক ঐক্যে। গ্রামের স্বার্থকে সবার ওপরে রেখে একসঙ্গে এগিয়ে চলার এই উদ্যোগ আজ শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, গোটা বাংলার গ্রামোন্নয়নের ক্ষেত্রেই এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)