এই সময়, খড়্গপুর: আইআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহকারী অধ্যাপক দীপক রেড্ডি পুল্লাগুরমের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল না। তদন্তে পুলিশ জেনেছে, সর্বদাই ভীষণ হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত থাকতেন দীপক। অন্য অধ্যাপকদের সঙ্গে সুসম্পর্কের পাশাপাশি ছিলেন ছাত্রদরদীও। এমনকী, বাবা-মায়ের সঙ্গেও ফোনে রসিকতা করতেন অবলীলায়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন। মায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ রসিকতা করেন খাবার নিয়ে।
বুধবার দুপুরে সেই ছেলেরই যে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের খবর পাবেন তাঁরা, কল্পনাতেও ভাবতে পারছেন না বাবা-মা। ঘটনায় হতবাক আত্মীয় পরিজনও। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়েই হায়দরাবাদ থেকে খড়গপুরে পৌঁছন দীপকের বাবা ও ভাই। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পরে দীপকের দেহ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাবা ভেঙ্কট রেড্ডি এ দিন বলেন, 'প্রায় প্রতি রাতেই ওর মা ও আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলতো। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ যখন ফোনে কথা হয়েছিল তখনও ল্যাবরেটরিতে ছিল দীপক। আধঘণ্টারও বেশি কথা হয়।'
তিনি জানান, বেশিরভাগ সময় মাকে জিজ্ঞাসা করত কী খাবার বানিয়েছে। নিজে কী খেয়েছে তাও জানাত। কোনওদিন বাইরে থেকে খাবার আনালে বা রেস্তোরাঁয় খেলেও জানাত। মঙ্গলবার রাতেও 'মায়ের সঙ্গে খাবার নিয়ে ইয়ার্কি করেছে। মা ডালবড়া আর চাটনি বানিয়েছে জেনে বলল, সেই এক ডালবড়া আর চাটনি। কত আর খাবে। নতুন স্বাদের খাবার বানাতে পারো না? খাবার বানাতে কষ্ট হলে রেস্তোরাঁয় গিয়ে ভালো ভালো খাবার খাও। সেই ছেলে যে এমন করবে ভাবতে পারছেন না তাঁরা। ভাই দীক্ষিত রেড্ডির কথায়, 'আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না, কেন এমন ঘটল। পুলিশ তদন্ত করছে। দেখা যাক, তদন্তে কী উঠে আসে।'
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, বিবাহ বিচ্ছেদের পরে ছোট্ট মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে না পারার কারণেই মানসিক অবসাদে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দীপকের মোবাইল ও ল্যাপটপও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ অধ্যাপক, কর্মী এবং নিরাপত্তরক্ষীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে থানায় এফআইআর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খড়গপুর আইআইটির রেজিস্ট্রার অচিন্ত্যকুমার মণ্ডল।
ঘটনার পরে দীপকের পরিবারকে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি দু'জনের বিমানের টিকিটও পাঠিয়ে দেওয়া হয় খড়গপুর আইআইটির তরফে। বৃহস্পতিবার দেহ নিয়ে বিমানেই ফিরে গিয়েছেন দীপকের বাবা ও ভাই।