প্রশান্ত ঘোষ, ভাঙড়
বৃষ্টিভেজা সকালে তখনও রাস্তায় সে ভাবে লোক চলাচল শুরু হয়নি। পঞ্চায়েত অফিসের তালা খুলতে বাকি কয়েক ঘণ্টা। অথচ অফিসের সামনে তখনই সারি সারি ইট, ঢিল আর পাথরের টুকরো। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা যাতে হাতছাড়া না হয়, সেই আশঙ্কায় ভোর থেকেই একের পর এক মহিলা এসে নিজের জায়গা 'দখল' করে রেখে যাচ্ছেন একটি ইট। তার পর বাড়ি ফিরে সংসারের কাজ সেরে আবার ছুটে আসছেন পঞ্চায়েত অফিসের সামনে। ভাঙড়ের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে গত কয়েক দিন ধরে এমনই ছবি ধরা পড়ছে।
ভাঙড়-২ ব্লকের ভোগালি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত। সকাল সাতটাতেই পঞ্চায়েত অফিসের সামনে পৌঁছে গিয়েছিলেন মারুফা বিবি। অথচ অফিস খোলার সময় সকাল ১১টা। তবুও তাঁর আক্ষেপ, 'এত সকালে এসেও দেখি আমার আগে অন্তত ১৫ জনের লাইন!' একই ছবি সোনালি নস্করের ক্ষেত্রেও। ছেলেকে কাঁঠালিয়ার একটি নার্সারি স্কুলে পৌঁছে দিয়েই তিনি ছুটে আসেন পঞ্চায়েত অফিসে। এসে দেখেন, ইতিমধ্যেই ইটের লাইন লম্বা হয়ে গিয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনিও একটি ইট রেখে যান।
আসলে জুন ও জুলাই মাসে যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদান পেয়েছেন কিংবা সম্প্রতি অনলাইনে আবেদন করেছেন, তাঁদের নথি যাচাই বা ভেরিফিকেশন চলছে পঞ্চায়েতে। সেই যাচাই সম্পূর্ণ না হলে পরবর্তী কিস্তির টাকা মিলবে না। তাই প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে পঞ্চায়েতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আবেদনকারীদের। সেই নির্দেশ ঘিরেই তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব ভিড়।
সবচেয়ে বেশি চাপ ভোগালি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে। ওই পঞ্চায়েতের প্রধান সোমা মণ্ডল বলেন, 'জুন ও জুলাই মাসে যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন, তাঁদের নথি যাচাই করা হচ্ছে। অফিসিয়াল সময় সকাল ১১টা হলেও আমরা আধ ঘণ্টা আগে থেকেই কাজ শুরু করছি। বিকেল পর্যন্ত নথি নেওয়া হচ্ছে। তবুও অনেকে ভোর থেকেই এসে ইট রেখে লাইনে নাম লেখাচ্ছেন।'
ব্লক প্রশাসন সূত্রের খবর, ভাঙড়-২ ব্লকে জুন মাসে প্রায় ৩৪ হাজার মহিলা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করে ১ জুলাই তিন হাজার টাকা পেয়েছেন। চলতি মাসে আরও প্রায় ২২ হাজার মহিলা আবেদন করেছেন। অনেকেরই আশা, দ্রুত ভেরিফিকেশন শেষ হলে অগস্টের শুরুতেই তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা পৌঁছে যাবে। ভাঙড়ের বিজেপি নেতা অবনী মণ্ডলের দাবি, 'আমাদের ব্লকে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করেছেন। তাই নাম যাচাইকে কেন্দ্র করে হুড়োহুড়ি, মারামারির পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।'