• মমতার মদতেই টুলুদের বিরাট চক্র, যুক্ত আরও অনেকে, ৯৩ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ়, বললেন শুভেন্দু
    এই সময় | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদত না থাকলে টুলু মণ্ডলদের চক্র দিনের পর দিন এ ভাবে চলতে পারে না। পাথর খাদানের কোটি কোটি টাকা এত দিন ধরে যাঁদের কাছে পৌঁছেছে, সেই সব মাথাকেই খুঁজে বার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানালেন, রাজ্যে পালাবদলের পরেই বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন টুলু। তাঁর খোঁজ চলছে। পাশাপাশি টুলুর বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে যে ৯৩ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ, তা-ও ফ্রিজ় করা হয়েছে।

    শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে টুলু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, টুলুর আসল নাম মহম্মদ নাজি়বুদ্দিন। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে পুলিশ নগদ ৫৩ লক্ষ টাকা, ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো, ২৩ গ্রাম প্ল্যাটিনামের গয়নাও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ৮৩টি ট্রাক-সহ ২৪২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে ট্রাক, ডাম্পার, এমনকী বিএমডব্লিউ ও অডির মতো গাড়িও আছে। মিলেছে ডিসিআর চালান, টাকা গোনার যন্ত্র। ২১টি সম্পত্তির হদিসও পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে সাতটি বাড়ি, একটি ফার্মহাউস, দু’টি পেট্রল পাম্প। টুলুর ৩০০ বিঘা জমিও আছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘এটা বড় চক্র। এমন বিভিন্ন জেলায় আছে। সব বাজেয়াপ্ত করব। নিলামে চড়াব। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।’

    টুলুদের চক্রের টাকা পাচার হয়েছে বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এ-ও জানান যে, এই ঘটনায় আরও পাঁচ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন টুলুর হিসাবরক্ষক পিনাকী দে এবং সহকারী হিসাবরক্ষক রাকিবুল ইসলাম। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় বীরভূমে পাথর থেকে বছরে ৬০-৮০ কোটি টাকা সরকারের মুনাফা হতো। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরের এক মাসে ৮৩ কোটি টাকা আয় হয়েছে সরকারের। শুভেন্দু বলেন, ‘এটার মানে হলো, ওই জেলা থেকে সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকা আসত। বাকি ১০০০ কোটি টাকা অন্য কোথাও চলে যেত। আর গত ১৫ বছর ধরে যদি এটা চলে থাকে, তা হলে ১৫ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।’

    এত দিন ধরে সরকারের অর্থ পাচার হয়ে কোথায় গিয়েছে, তা তদন্ত করে খুঁজে বার করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার দিকেই আঙুল তুলে শুভেন্দু বলেন, ‘এত বড় র‌্যাকেট। এত দিন ধরে চলেছে। ২৪২টা গাড়ি তো আর এক দিনে হতে পারে না। পুলিশ প্রশাসন সকলেই জড়িত। যিনি সরকার লিড করেছেন, তাঁর উপরেও দায় বর্তায়। চোদ্দতলা যদি চোখ খোলা রাখে, এ সব হতে পারে না। প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি নির্দেশ দেন, তা হলে তা নীচ পর্যন্ত যেতে বাধ্য।’

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন সরকার দুর্নীতি ধরতে যে ভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে জায়গায় জায়গায়, তাতে চলতির অর্থবর্ষের শেষে সরকারের আয় অনেকটাই বাড়বে। শুভেন্দুর কথায়, ‘অর্থসচিব আমায় বলেছেন, ১২ শতাংশ রেভিনিউ বেড়েছে। আমরা মাত্র ১০ সপ্তাহের সরকার। আমার বিশ্বাস, এই অর্থবর্ষ শেষ হলে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত রেভিনিউ আসবে।’

  • Link to this news (এই সময়)