আজকাল ওয়েবডেস্ক: জুলাই মাসের শেষদিন। কিন্তু এখনও বর্ষাবিদায়ের কোনও লক্ষণ নেই। বরং আগস্টের প্রথমার্ধে আরও শক্তি বৃদ্ধি করতে চলেছে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিগত কয়েক সপ্তাহের অনিয়মিত বৃষ্টির পর সার্বিক পরিস্থিতির বড় ধরনের উন্নতির আশা দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে মৌসুমী বায়ুর বৃষ্টির ঘাটতি কমেছে। বর্তমানে তা ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্ষার মরসুম শুরুর দিকেই এই ঘাটতির পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মহারাষ্ট্রের উপরে অবস্থিত একটি গভীর নিম্নচাপ অঞ্চল। এর জেরেই বর্ষার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। মৌসুমী অক্ষরেখার সঙ্গে যুক্ত ওই গভীর নিম্নচাপটি আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা টেনে আনছে। দলে বাড়ছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আরব সাগরের উপরে দিয়ে প্রবাহিত শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ 'সোমালি জেট' এই আর্দ্রতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করছে। গভীর নিম্নচাপ, সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা এবং শক্তিশালী সোমালি জেটের এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবে মধ্য ও পশ্চিম ভারতের বড় অংশে ব্যাপক ও তীব্র বৃষ্টির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং সংলগ্ন অঞ্চলে চলছে ভারী বৃষ্টিপাত। আইএমডি-র স্যাটেলাইট মানচিত্র অনুযায়ী, মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে এখন স্বাভাবিকের কাছাকাছি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে দক্ষিণ উপদ্বীপ এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে এখনও কিছু ঘাটতি রয়ে গিয়েছে। এমনকি, গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্র, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যগুলিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, আগামী কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা আগস্টের প্রথমার্ধেও বর্ষাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে। বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে আগামীদিনে বৃষ্টির ঘাটতি আরও কমবে। যা নদী ও জলাধারগুলির জলস্তর এবং খরিফ শস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।