প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত ছাড়া বীরভূমের অভিযুক্ত টুলু মণ্ডল এত বিপুল সম্পত্তির মালিক হতে পারতেন না বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের কারণেই অবৈধ পাথর ও খনিজ চক্র রাজ্যের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির কারণ হয়েছে।
শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বীরভূমে পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থন ছাড়া এটা হতে পারে না। এত বড় ব়্যাকেট বছরের পর বছর চলেছে। এর দায়িত্ব তৎকালীন সরকারেরও রয়েছে।’
তাঁর অভিযোগ, অন্তত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে এই চক্র সক্রিয় ছিল এবং সরকারের সর্বোচ্চ স্তরের প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় সংগঠিত অপরাধচক্র গড়ে ওঠা সম্ভব নয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার বীরভূম পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা নগদ এবং ২৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
এছাড়া বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আরও ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, ২৬৮ ভরি সোনা, ৪০০ গ্রাম রূপো এবং ২৩ গ্রাম প্লাটিনাম।
তাঁর দাবি, পুলিশের জেরায় মিনার জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া অর্থের মালিক মূল অভিযুক্ত টুলু মণ্ডল, যিনি বর্তমানে পলাতক। ভোটের ফল ঘোষণার পরই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও রাজ্য পুলিশের এসটিএফের সহায়তা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযানে নগদ অর্থ ও মূল্যবান ধাতুর পাশাপাশি ক্যাশ কাউন্টিং মেশিন, কম্পিউটার, পেনড্রাইভ, সিপিইউ এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথিও উদ্ধার হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তদন্তে এখনও পর্যন্ত ২১টি সম্পত্তি চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি, একটি ফার্মহাউস, দুটি পেট্রোল পাম্প, একটি পার্কিং এলাকা-সহ মোট প্রায় ৩০০ বিঘা জমি। আইন অনুযায়ী সেগুলি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া ২৪২টি যানবাহন, যার মধ্যে ট্রাক, ডাম্পার, অডি, বিএমডব্লিউ-সহ বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সেগুলি নিলামে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, অতীতের সরকারের আমলে বীরভূমের পাথর শিল্প থেকে বছরে মাত্র ৬০-৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হত। অথচ বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এক মাসেই ওই খাত থেকে প্রায় ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে, যা বর্তমানে ১০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে তাঁর দাবি।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে শুধু একটি জেলা ও একটি খাত থেকেই প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে। এই অর্থ সরকারি কোষাগারে এলে আরও হাসপাতাল, স্কুল নির্মাণ এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব হত বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই ঘটনায় বিশেষ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পিনাকী দে, রাকিবুল ইসলাম-সহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ মিললে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি বীরভূমের পুলিশ সুপার ও রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রশংসা করে বলেন, রাজস্ব লিকেজ রোধে একই ধরনের অভিযান রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও চালানো হবে।