• ১৭ বছর আগে বিচ্ছেদ, অবশেষে ওমর আবদুল্লার ডিভোর্সে সম্মতি সুপ্রিম কোর্টের
    প্রতিদিন | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং তাঁর বিচ্ছিন্ন স্ত্রী পায়েলের বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনে সম্মতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতে যুগল জানিয়েছিল তারা আর একসঙ্গে থাকতে চায় না। এরপরই শীর্ষ আদালত সম্মত হয় তাঁদের ডিভোর্সের আবেদনে সাড়া দিতে।

    দিল্লির দ্য ওবেরয় হোটেলে কাজ করার সময় পরিচয় হয়েছিল ওমর ও পায়েলের। সেখান থেকেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া। এরপর ১৯৯৪ সালে বিয়ে। তাঁদের দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। নাম জাহির ও জমির। ২০০৯ সাল থেকেই ওমর ও পায়েল আলাদা বাস করতে শুরু করেন। ২০১১ সালে ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা তাঁদের বিচ্ছেদের ঘোষণা করেন। ফলে শেষ হয়ে যায় ১৭ বছরের সম্পর্ক। এর দেড় দশক বাদে সুপ্রিম কোর্ট সম্মতি দিল তাঁদের ডিভোর্সে।

    এদিন ওমর ও পায়েলের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কপিল সিব্বাল। বিচারপতি পিএস নরসিমহা ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চের সামনে তিনি জানান, তাঁর দুই মক্কেল আলাদা থাকছেন। এবং এমাসের শুরুতেই সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা উল্লেখ করে ডিভোর্সের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে ভেঙে দেওয়ার আবেদনও করেছেন তাঁরা। তখন বিচারপতি নরসিমহা জানিয়ে দেন, আদালত যথাযথ নির্দেশ দেবে। 

    উল্লেখ্য, এর আগের এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, ওই দম্পতি ১৬ বছর ধরে আলাদা বসবাস করছেন। এবং সেই সঙ্গেই তাঁদের সম্পর্ককে ‘একটি মৃত বিবাহ’ বলে অভিহিতও করে। অবশেষে এদিন ডিভোর্সে সম্মতি দিল বিচারপতিদের বেঞ্চ। 

    ওমর শুরুতে নিষ্ঠুরতার অভিযোগে বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন। তবে ২০১৬ সালে পারিবারিক আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত নিষ্ঠুরতার অভিযোগগুলিকে অস্পষ্ট ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছিল। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওমর। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্টের এক ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর আবেদনে কোনও সারবত্তা খুঁজে না পাওয়ায় পারিবারিক আদালতের আদেশই বহাল রাখে। পাশাপাশি হাইকোর্ট ওমরকে নির্দেশ দেয়, পায়েলকে মাসিক দেড় লক্ষ টাকা খোরপোশ এবং তাঁদের এক ছেলের পড়াশোনার খরচ বাবদ মাসে ৬০,০০০ টাকা দিতে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)