কথায় আছে, ‘শাঁখের করাত’ দশা। যেতেও কাটে, আসতেও কাটে। এখন সেই সমস্যাতেই বিদ্ধ তৃণমূলত্যাগী এনসিপিআই সাংসদরা। না তৃণমূলের হয়ে সংসদীয় এলাকায় কাজ করতে পারছেন, না এনডিএ-র শরিক হিসেবে নতুন পরিচয় আত্মপ্রকাশ করতে পারছেন। কারণ, এনসিপিআই সাংসদদের নিয়ে এখনও লোকসভার স্পিকার কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। যদিও মৌখিকভাবে এনডিএ তাঁদের শরিক বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। তা সত্ত্বেও সংসদে যেন ভেসে রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়রা (Satabdi Roy)। তার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) সঙ্গে দেখা করলেন বীরভূমের সাংসদ। নিজেদের সমস্যার কথা খোলাখুলিভাবে জানালেন।
সূত্রের খবর, শুক্রবার দুপুরে সংসদে প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে গিয়ে মোদির সঙ্গে দেখা করেন শতাব্দী রায়। মূলত দুটি সমস্যা নিয়ে তিনি কথা বলেন। প্রথমত, এনসিপিআইয়ের ভবিষ্যৎ এখনও দোদুল্যমান। একদিকে এনডিএ-র শরিক হয়ে তাঁরা নিজেদের সংসদীয় এলাকায় কোনও কাজ করতে পারছেন না। তাঁদের অনুগামী হিসেবে এতদিন যাঁরা তৃণমূল কর্মী পরিচিত ছিলেন, তাঁরা এই মুহূর্তে কোন দলের, বুঝতে না পেরে চূড়ান্ত সংশয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপির শরিক হয়েও তাঁরা কাজ করতে পারছেন না। এসবের দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে মোদির কাছে আবেদন জানিয়েছেন শতাব্দী।
আর দ্বিতীয় সমস্যা শতাব্দীর নিজের এলাকা নিয়ে। বীরভূমের বেশ কয়েকটি আটকে থাকা প্রকল্প নিয়ে মোদির সঙ্গে আলোচনা করেছেন সাংসদ। সূত্রের খবর, সেসব সমস্যার কথা মন দিয়ে শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী। আশ্বাস দিয়েছেন সমাধানের। তবে জোর দিয়েছেন এনসিপিআইয়ের ভবিষ্যৎ নিষ্পত্তিতে। কারণ, এর মধ্যেই দলের ২০ জন সাংসদের মধ্যে দু, তিনজনের শিবির বদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠায় তা নিয়েও ধোঁয়াশা জারি। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর দরবারে গিয়ে আবেদন জানালেন শতাব্দী রায়। এর আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এনসিপিআই নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছিলেন।