রক্তদানে জেন জি-দের আকৃষ্ট করতে এবার ডিজিটাল প্রচারে বঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তর (Swasthya Bhawan)। ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের মতো সমাজমাধ্যমে শুরু হচ্ছে জোরদার বিজ্ঞাপন। ১ আগস্ট থেকে মুঠোফোনে ঘুরবে তা। যে প্রচারে বার্তা, ‘রক্তদান করলে শরীর দুর্বল হয় না। রক্তের তরল অংশ ৪৮ ঘণ্টায় পুরণ হয়। ২১ দিনে রক্তকণিকা পুনরুদ্ধার হয়।’ রীতিমতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বানানো হয়েছে ছোট ছবি। ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সমাজ মাধ্যমে।
টোল ফ্রি হেল্প লাইন নম্বরও প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ১২৩৪৫৬৭৮৯১ নম্বরে ফোন করলে জানা যাবে কেন রক্তদান অত্যন্ত জরুরি। এতে নিজেরই বা কি সুবিধা হতে পারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুধু অন্যের উপকার নয়। নিজের শরীরের হিতের জন্যই বছরে একবার রক্ত দেওয়া উচিত। কারণ? ২০২৫-‘২৬ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে লিভারের অসুখ হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হয়েছেন দু’হাজার ৮৫ জন। সব মিলিয়ে বঙ্গে হেপাটাইটিস বি রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার তিনশোরও বেশি। কিন্তু এই অসুখকে প্রথমে ধরতে পারেন না অনেকেই। হেপাটাইটিসের মূল উপসর্গ ক্লান্তিকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নেন অনেকে। অনেকেই ভাবেন অতিরিক্ত পরিশ্রমের জন্য ক্লান্ত লাগছে। প্রাথমিকভাবে খিদেও কমে যায় হেপাটাইটিসে।
চিকিৎসকরা বলছেন, কোনও কারণে, লিভারের কর্মক্ষমতা কমে গেলে প্রদাহ হয়, বিপাকজনিত সমস্যাও হতে পারে। ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়ে শরীর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “জনগণ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত এইচআইভি নিয়ে। অথচ এইচআইভি-র থেকে বেশি ভয়াবহ হেপাটাইটিস বি অ্যান্ড সি। হেপাটাইটিস বি এবং সি সময়মতো শনাক্ত না হলে পরবর্তীকালে লিভার সিরোসিস হতে পারে। যারা দীর্ঘমেয়াদি লিভার সিরোসিসে ভোগেন তার মধ্যে পাঁচ শতাংশের হেপাটোসেলুলার ক্যানসার হতে পারে। সেটা ভয়ংকর।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, এই হেপাটাইটিস বি এবং সি আমরা নিজেরাই প্রতিরোধ করতে পারি। সব চেয়ে সুন্দর সুযোগ হল রক্তদান। বছরে একবার অন্তত রক্তদান করুন।” নিয়ম অনুযায়ী রক্তদাতা রক্ত দিলে তা পরীক্ষা করে দেখা হয়, দাতার শরীরে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, এটা অনেকটা বাই ওয়ান গেট ওয়ান অফারের মতো। বছরে একবার রক্ত দিলে আমরা প্রতি বছরই জানতে পারব নিজের শরীরে হেপাটাইটিস আছে কি না। ২৫০ এমএল রক্ত দিলেই জানতে পারবেন নিজের হেপাটাইটিস, এইচআইভি আছে কি না। সম্প্রতি কিছু বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের দুর্নীতি এসেছে সামনে। শুরু হয়েছে তদন্ত। মানুষ যাতে আরও বেশি করে সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তদান করেন তার জন্য পুজোর সময়কে বেছে নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুজোর মরশুম জুড়ে প্রচার চলবে রক্তদানের।