• তিনটি মার্কশিট, জাল নথি, NEET-UG পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ হাইকোর্টের
    এই সময় | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষায় তিনটি পৃথক মার্কশিট পাওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক পরীক্ষার্থী। কিন্তু মামলার শুনানিতে তাঁর পেশ করা নথি নিয়েই উঠল গুরুতর প্রশ্ন। শুক্রবার আদালতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) তরফে দাবি করা হয়, আবেদনকারীর জমা দেওয়া সমস্ত নথিই জাল। শেষ পর্যন্ত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

    মামলাকারী পরীক্ষার্থী দাবি করেছিলেন, NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষায় তাঁকে তিনটি ভিন্ন মার্কশিট দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে হইচই পড়ে যায়। হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই পরীক্ষার্থী। কিন্তু মামলার শুনানিতে এনটিএ-র আইনজীবী আদালতে পাল্টা দাবি করেন, আবেদনকারীর দাখিল করা মার্কশিট, ওএমআর শিট-সহ সমস্ত নথিই ভুয়ো।

    এনটিএ-র বক্তব্য, আদালতে পেশ করা স্কোরকার্ডটি আদতে ২০২৬-এর নয়। ২০২৫-এর পরীক্ষার। জমা দেওয়া ওএমআর শিটও আসল নয়, সেটা বিকৃত করা হয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়, পুরো বিষয়টি সামনে আসার পরে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আবেদনকারীকে আগামী তিন বছর NEET পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার কথাও আদালতে জানিয়েছে এনটিএ।

    উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে বিচারপতি অমৃতা সিনহা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘আদালতকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে জাল নথি পেশের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’ এর পরেই আবেদনটি খারিজ করে দেয় আদালত। একই সঙ্গে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এনটিএকে অনুমতিও দিয়েছেন তিনি। ফলে NEET-UG সংক্রান্ত মামলায় জাল নথি পেশের অভিযোগ এখন পৃথক আইনি পদক্ষেপের দিকে গড়াল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

    উল্লেখ্য, চলতি বছর নিট-ইউজি পরীক্ষা ঘিরে একাধিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এর আগেও নম্বর বিভ্রাটের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। শুক্রবারের এই নির্দেশের ফলে পরীক্ষার্থীদের জাল নথি পেশ করার প্রবণতা রুখতে আদালত ভবিষ্যতে আরও কড়া অবস্থান নিতে পারে বলে মনে করছে আইনজীবী মহলের একাংশ।

    উত্তর: এক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষায় তাঁকে তিনটি পৃথক মার্কশিট দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগ নিয়েই তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

    উত্তর: এনটিএর দাবি, আবেদনকারীর জমা দেওয়া সমস্ত নথি জাল। স্কোরকার্ডটি ২০২৫ সালের পরীক্ষার এবং ওএমআর শিটও বিকৃত করা হয়েছে।

    উত্তর: বিচারপতি অমৃতা সিনহা প্রাথমিকভাবে মনে করেন, আদালতকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে জাল নথি পেশের চেষ্টা হয়েছে। সেই কারণেই আবেদন খারিজ করা হয়।

    উত্তর: আদালতের অনুমতি নিয়ে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করবে এনটিএ।

    উত্তর: এনটিএ আদালতে জানিয়েছে, আবেদনকারীকে আগামী তিন বছর NEET পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।

    উত্তর: আদালতের এই নির্দেশ জাল নথি দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনজীবীদের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় আদালত আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)