• কাপড়ের দোকানের কর্মী থেকে জঙ্গি-যোগের অভিযোগ! পাকিস্তানি শাহজাহাদ ‘ঘনিষ্ঠ’, কে এই হামিম?
    এই সময় | ৩১ জুলাই ২০২৬
  • রিপোর্টিং: গোপাল সোনকার, রূপক মজুমদার

    মাদকসন্ত্রাস কার্যকলাপের নেটওয়ার্ক বাড়ানো নাকি নাশকতার ছক? উদ্দেশ্য কী ছিল? নাকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই টার্গেট? খতিয়ে দেখছে রাজ্য পুলিশের STF। গত কয়েক বছরের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাওড়ার ছেলে হামিম মণ্ডল (২৪) আসলে কে? কী করে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হলো সে? পুলিশ ও STF থেকে যা যা তথ্য মিলল, তা কপালে চোখ তুলে দেওয়ার মতো বিষয়।

    বর্ধমানের মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামে থাকত হামিমের পরিবার। সম্প্রতি রেনেসাঁ এলাকায় বাবা, মা, বোনকে নিয়ে ভাড়া থাকত হামিম। বাবার নাম মণিরুল মণ্ডল। বাবা আলু-পেঁয়াজের ব্যবসা করেন। হামিম নিজে কাপড় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। হাওড়ার পিলখানা এলাকায় জামা-কাপড়ের রেডিমেড সেন্টারে কাজ করত হামিম। তবে নিজেকে কখনও আইটি ছাত্র, আবার কখনও ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিত।

    হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে STF জানতে পেরেছে, হামিমের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল শাহ্জাহাদ ভাট্টির নাম। পাকিস্তানের গ্যাংস্টার ছিল শাহজাহাদ। পরে জঙ্গি গোষ্ঠীতে নাম লেখায় সে। শাহজাদ ভাট্টি ‘রানা ভাই’ নামেও পরিচিত। শাহজাদ ভাট্টির গোষ্ঠীতে ‘রানা ভাই’ নামে এক যুবক কাজ করে। সেই রানার সঙ্গে হামিমের যোগাযোগ সূত্রে মিলেছে। সেই সূত্র থেকেই শাহজাহদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় হামিমের? চলছে তদন্ত। হামিমের সঙ্গে জৈশ-ই-মহম্মদ, আইএসের সঙ্গে যোগ ছিল কি না সেটাও ঘেঁটে দেখা হচ্ছে।

    হামিমের মোবাইল ও অন্যান্য ডিভাইস যাচাই করে গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়ঙ্কর তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে STF সূত্রে খবর। হামিমের মোবাইল থেকে প্রচুর ভিডিয়ো পাওয়া গিয়েছে। সবগুলিই মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির। এর মধ্যে রয়েছে তারকেশ্বর, অন্ডাল বিমানবন্দর, দুর্গাপুরের বিভিন্ন জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির ভিডিয়ো। এমনকী, মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক-সহ কলকাতার রাস্তার একাধিক ভিডিয়ো রয়েছে মোবাইলে। কোন নিউজের ক্লিপিং নয়, নিজের ফোনে তোলা হয়েছে সেই ভিডিয়ো। সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। কেন মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি নজরে রাখত হামিম? সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

    শাহজাহাদ ভাট্টির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সবথেকে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে এসটিএফ আধিকারিকদের। সম্প্রতি ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তদন্তে বারবার একটি নাম উঠে আসছে— শাহজাদ ভাট্টি। যার সঙ্গে ISI-এর যোগসূত্র থাকার অভিযোগ রয়েছে।

    সমাজ মাধ্যমেই হামিদের সঙ্গে শাহজাহদের যোগাযোগ হয় বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, এই রাজ্যে বেশ কিছু কাজের বরাত দেওয়া হয়েছিল হামিমকে। তবে ঠিক কী ধরনের কাজ করতে বলা হয়েছিল, সে ব্যাপারে গোয়েন্দাদের তরফে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি।

    ৩০ জুলাই সকাল ৮টা নাগাদ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল হামিমকে। এ দিন বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। আদালত হামিমকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। হামিমের কাছ থেকে একটি আইফোন ও দু’টি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। হামিমের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা হচ্ছে।

    প্রশ্ন: হামিম মণ্ডল কে?

    উত্তর: হাওড়ার বাসিন্দা ২৪ বছরের যুবক, যিনি কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং জঙ্গি-যোগের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

    প্রশ্ন: হামিমকে কারা গ্রেপ্তার করেছে?

    উত্তর: রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

    প্রশ্ন: শাহজাহাদ ভাট্টি কে?

    উত্তর: পাকিস্তানের প্রাক্তন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, যিনি এখন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং একাধিক ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড।

    প্রশ্ন: মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্ক কী?

    উত্তর: হামিমের মোবাইলে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির একাধিক ভিডিয়ো মেলায় তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রীই ছিলেন লক্ষ্য।

  • Link to this news (এই সময়)