রিপোর্টিং: রূপক মজুমদার, গোপাল সোনকার
বর্ধমান কার্জন গেট থেকে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যেই শুরু রেনেসাঁ টাউনশিপ। সেই টাউনশিপের রোহিনী ৯ অ্যাপার্টমেন্টে থাকত হামিম মণ্ডল। সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই খাগড়াগড়। বছর ১২ আগে সেখানেই একটি দ্বিতল ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্যকে। হামিমকে গ্রেপ্তারির কারণ হিসেবেও রয়েছে জঙ্গি যোগ। খাগড়াগড়ের ঘটনাতে মিলেছিল বাংলাদেশের জঙ্গি যোগের কথা।
এক নজরে
খাগড়াগড়ের ঘটনার তদন্তে নেমে বর্ধমান স্টেশনকে 'জঙ্গিদের করিডর' বলে আখ্যা দিয়েছিল NIA। সেই দিন (২ অক্টোবর, ২০১৪) খাগড়াগড়-সহ বাদশাহি রোড, বাবুরবাগ, মোহানবাগান মাঠ ইত্যাদি এলাকায় মিলেছিল বেশ কিছু বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনের হদিশ। পরবর্তী সময়ে তদন্তে নেমে নিগন এলাকার শিমুলিয়ায় মহিলাদের জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘাঁটিও উদ্ধার করেছিল এনআইএ। বৃহস্পতিবার সকালে রেনেসাঁ উপনগরী এলাকায় একটি জিম সেন্টার থেকে হামিম মণ্ডল (২৪) কে গ্রেপ্তারের পরে পুলিশ-সহ বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার মনেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন বার বার বর্ধমান বা তার আশপাশ এলাকাকেই বেছে নিচ্ছে জঙ্গিরা।
বর্ধমান থেকে গাড়িতে ঘণ্টায় আড়াই-তিন ঘণ্টা কলকাতা। এক থেকে দেড় ঘণ্টায় অন্ডাল এয়াপোর্ট বা দুুর্গাপুর। অন্যদিকে একই সময়ে বীরভূমেও ঢুকে পড়া যায়। জেলায় কাজ করে যাওয়া এক আইপিএস জানান, এর মূল কারণ ভৌগলিক সীমানা। একদিকে জাতীয় সড়ক ধরে দিল্লি অবধি অনায়াস যাতায়াত। অন্যদিকে বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের সঙ্গে রেল যোগাযোগ খুবই ভালো। আর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগে অত্যন্ত ভালো জায়গায় বর্ধমান স্টেশন। অপরাধীরা সেই জায়গাকে বেছে নেয় যেখান থেকে দ্রুত পালানো সম্ভব।
অন্যদিকে আরও একটি কারণ বলছেন অনেকে। শহর কলকাতা বা উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এলাকায় এখন নজরদারি অনেক বেড়েছে। সেই তুলনায় বর্ধমানে নজরদারি অনেকটাই কম বলে দাবি। যদিও পুলিশ এ কথা উড়িয়ে দিয়েছে। ২০১৪ সালের বিস্ফোরণের মতন ঘটনা ঘটার পরেও বর্ধমান শহরে ভাড়াটিয়াদের কোনও তথ্য-তালিকা এখনও সে ভাবে তৈরি হয়নি বর্ধমান থানায়।
প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা প্রথমত যে পরিচয়পত্র ব্যবহার করছে, সেগুলি নকল। হামিম মণ্ডলের ক্ষেত্রেও একই। কারণ এই হামিম রেনেসাঁয় ঘর ভাড়া নেওয়ার আগে বর্ধমান শহরের ৩টি জায়গা পছন্দ করেছিল ৪ জন থাকবে বলে। সেখানেও তারা ‘দালাল’এর মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিল। পরিচয় গোপনের কি উদ্দেশ্য ছিল? তদন্ত করছেন STF আধিকারিকরা।
প্রশ্ন: খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কবে ঘটেছিল?
উত্তর: ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে একটি দ্বিতল ভবনে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যাতে বাংলাদেশি জঙ্গি-যোগ মিলেছিল।
প্রশ্ন: হামিম মণ্ডলকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?
উত্তর: বর্ধমানের রেনেসাঁ উপনগরী এলাকার একটি জিম সেন্টার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে।
প্রশ্ন: NIA বর্ধমান স্টেশনকে কী বলে চিহ্নিত করেছিল?
উত্তর: খাগড়াগড় তদন্তে বর্ধমান স্টেশনকে জঙ্গিদের করিডর বলে আখ্যা দিয়েছিল এনআইএ।
প্রশ্ন: বর্ধমানে জঙ্গিরা কেন বারবার ঘাঁটি গাড়ে বলে মনে করা হচ্ছে?
উত্তর: ভৌগোলিক ভাবে কলকাতা, দিল্লিমুখী জাতীয় সড়ক, রেল যোগাযোগ ও দ্রুত পালানোর সুবিধা, সঙ্গে অপেক্ষাকৃত কম নজরদারি— এই কারণগুলিকে দায়ী করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।