• 'উৎসবের কারিগর' হয়েও মুখে নেই হাসি, দর কষাকষি করে ফিরছেন অনেকে! পালপাড়ায় চিন্তার মেঘ
    News18 বাংলা | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • বরাত বেড়েছে সুন্দরবনের প্রতিমা শিল্পীদের, চিন্তা শুধু ঝড়-বৃষ্টি। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের প্রত্যন্ত সুন্দরবনে এখন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ততা মৃৎশিল্পীদের।  শিল্পীর হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে প্রাণ পাচ্ছে মৃন্ময়ী প্রতিমা। বাঁশ, কাঠ ও বিচুলির কাঠামোর ওপর নদী থেকে আনা এঁটেল মাটির প্রলেপ দিয়ে গড়ে উঠছে দেবী দুর্গার রূপ। এই প্রতিমাগুলি শুধু স্থানীয় এলাকায় নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পুজো মণ্ডপেও পৌঁছে যায়।

    প্রায় দুই থেকে তিন দশক ধরে বংশপরম্পরায় এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এলাকার প্রতিমা শিল্পীরা। পরিবারের বড়দের কাছেই প্রতিমা গড়ার হাতেখড়ি। কেউ কাঠামো তৈরি করছেন, কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ প্রতিমা শুকানো ও রং করার কাজে হাত লাগাচ্ছেন। তাদের কথায়, পরিবারের সবার সহযোগিতা না থাকলে এত বড় কাজ সময়মতো শেষ করা সম্ভব হত না। তবে এবছর প্রতিকূলতারও শেষ নেই। বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্রতিমা শুকাতে দেরি হচ্ছে।

    পাশাপাশি কাঠ, বাঁশ, বিচুলি, রং-সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়েছে। অথচ সেই তুলনায় প্রতিমার দাম মিলছে না। অনেক ক্রেতাই প্রতিমা পছন্দ করলেও শেষ পর্যন্ত দর কষাকষি করেন, ফলে পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিল্পীরা। শিল্পীদের আক্ষেপ, এত পরিশ্রমের পরও রোজগার খুব বেশি নয়। পুজোর মরশুমে গড়ে ১০ থেকে ১২টি প্রতিমার অর্ডার আসে। যদিও এবছর বেড়েছে প্রতিমা তৈরির অর্ডার। কেউ কেউ ১৫ থেকে ২০ অর্ডার পেয়েছেন। সেই আয় দিয়েই বছরের বড় একটা সময় সংসার চালাতে হয়।

    কিন্তু বর্তমান বাজারদরে সেই আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই পেশায় আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না, বরং অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছে। দুর্গাপুজোর এখনও ৭৮ দিন বাকি। তাই এখন চলছে প্রতিমার মৃন্ময়ী রূপ দেওয়ার কাজ। এরপর ধাপে ধাপে রং, অলংকরণ ও শৈল্পিক সাজে ফুটে উঠবে দেবী দশভূজার পূর্ণাঙ্গ রূপ। এবছর অর্ডার কিছুটা বাড়বে বলে আশাবাদী শিল্পীরা। তাঁদের বিশ্বাস, ভাল কাজের মূল্যায়ন হলে সুন্দরবনের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আরও এগিয়ে যাবে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)