• পাক যোগে ধৃত বর্ধমানে! ‘এত ভীতু ছেলে...,’ হামিম মণ্ডল নিয়ে একেবারে উল্টো কথা তার কাকুর
    News18 বাংলা | ০১ আগস্ট ২০২৬
  • বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ উপনগরী থেকে জইশ-ই-মহম্মদের এর সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হওয়া ২৪ বছর বয়সি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। সূত্রের দাবি, ধৃতের সম্ভাব্য জঙ্গি-যোগের একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সমস্ত অভিযোগই এখনও তদন্তাধীন। এদিকে গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই হামিমের আত্মীয়রা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    ধৃতের আত্মীয়দের সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিমের জন্ম কলকাতাতেই। বর্তমানে সে তার বাবার সঙ্গেই নাকি ব্যবসার কাজে যুক্ত ছিল এবং বেশ কয়েকদিন হল বর্ধমানে এসে থাকছিল। পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বরের দীর্ঘনগর গ্রামে হামিমের আত্মীয়দের বাড়ি। জানা গিয়েছে, কোনও অনুষ্ঠান হলে সে এই গ্রামে আসত এবং এবারে নাকি সে ভোটও দিয়েছে এখান থেকেই। তবে হামিমের এই কর্মকাণ্ডের কথা শুনে কার্যত অবাক তাঁর আত্মীয়রাও।

    হামিমের এক কাকা সুমন মণ্ডল বলেন, “তবে যেটা, ও নিজের বাইক ঠিকমতো নিজেও চালাতে পারে না, এত ভীতু ছেলে। এবার এটা শুনছি, এটা শুনেই অবাক হচ্ছি। এবার কী কোথা থেকে হয়েছে স্যার, কী করে বুঝব? বুঝতে তো পারছি না, নিউজে দেখছি এইটাই। এছাড়া কিছু বুঝতে পারছি না স্যর।”

    হামিমের ছোট দাদু নাসিরুদ্দিন মণ্ডলেরও দাবি, হামিমের জন্ম, পড়াশোনা ও কর্মজীবন সবই কলকাতাকেন্দ্রিক। বাবার ব্যবসার সঙ্গেই সে যুক্ত ছিল। মোবাইল নিয়ে বেশি সময় কাটানোর জন্য পরিবারের আপত্তি থাকলেও কোনও উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে তাঁরা কখনও জানতে পারেননি। তাঁরা এই সমস্ত ঘটনা বিশ্বাসই করতে পারছেন না বলেই জানিয়েছেন।

    নাসিরুদ্দিন মণ্ডল আরও বলেন, “আমি শুনেই তো অবাক হয়েছি। যাই হোক, সেরকম ছেলে তো নয়ও। বাচ্চা ছেলে তো, ২৪ বছর বয়স। পড়াশোনা করেছিল কলকাতাতেই। তারপর ওর বাবার সঙ্গে একটা ব্যবসা আছে, ওই ব্যবসায় যুক্ত থেকে ব্যবসা-ট্যবসা করত ওইখানেই। আর কলকাতাতেই জন্ম। ওর বাবার বিয়ে হয়েছে, বিয়ে হওয়ার পরই ওর বাবা সেখানে ওর স্ত্রীকে নিয়ে ওইখানেই থাকে। এখানকার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নাই। তো ও যে জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ল বা ওর মধ্যে কোনও মনোভাব ছিল, এটা কোনওদিনই আমরা বলতে পারব না। আর আমি বলবই বা কী করে? বাচ্চা ছেলে, আর ওইরকম মনোভাব… তার বাপ ২৪ ঘণ্টা রেখে দেয় ওর কাছে। সেখানে নিজেদের ব্যবসা আছে, নিজের ব্যবসায় থাকে, ২৪ ঘণ্টা তো ব্যবসায় বসে থাকে।’’

    আরও পড়ুন :৫৩ লক্ষ ক্যাশ, ৮৩টি ট্রাক, ২৩টি প্রপার্টি টুলু মণ্ডলের!‘সাপোর্ট ছাড়া হতে পারে না…,’ সরাসরি মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর

    এরপরেই প্রশ্ন, পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার পর অন্য কোথায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল? ও কাশ্মীরে গিয়েছিল কোনও কাজে? উত্তর আসে, ‘‘না না না না! ও কোথাও যায় না। বাইরে-ফাইরে কোথায় যায় না। কোথাও যায় না। তাহলে যেটা অভিযোগ যে কাশ্মীরের একটি জঙ্গি সংগঠনের লিংক ম্যান হিসেবে কাজ করতো? ওটা বাজে কথা! হয়ত মোবাইলে কিছু…ও তো মোবাইল খুব ঘাটত! এমনি কোথাও এখান থেকে যায়নি।’’ এদিকে এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের মোবাইল, ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)