লোন নিয়ে ফেঁসেছেন যুবক, স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে কুপ্রস্তাব! কিস্তি দিতে না পারায় অপহরণ করে মারধর
News18 বাংলা | ০১ আগস্ট ২০২৬
৩৫ হাজার টাকার ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে আটকে রেখে নির্মম মারধরের অভিযোগ উঠল একটি বেসরকারি অর্থলগ্নী সংস্থার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের ইংরেজবাজার থানার বুড়াবুড়িতলা এলাকায়। পুলিশের হস্তক্ষেপে অপহৃত যুবককে উদ্ধার করে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারী টুম্পা ধরের দাবি, প্রায় তিন মাস আগে তিনি একটি বেসরকারি অর্থলগ্নী সংস্থার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে ১,৭০০ টাকা করে কিস্তি পরিশোধ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কিস্তি জমা না দিলে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হত। পরিবারের দাবি, আর্থিক সংকটের কারণে টানা তিন সপ্তাহ কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারেননি তাঁরা। এরপর থেকেই সংস্থার পক্ষ থেকে ফোনে হুমকি দেওয়া শুরু হয়। অভিযোগ, দুই দিন আগে বাড়ি ফেরার পথে টুম্পা ধরের স্বামী গোপাল ধরকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন।
তাঁকে গোপালপুর এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এমনকী টাকা জোগাড় করতে না পারলে স্ত্রী ও মেয়েকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবার প্রথমে পুলিশের দ্বারস্থ হলেও অভিযোগ, শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। পরে ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ীর হস্তক্ষেপের পর পুলিশ সক্রিয় হয়ে গোপন ডেরায় অভিযান চালায় এবং গোপাল ধরকে উদ্ধার করে।
পরিবারের অভিযোগ, বন্দি অবস্থায় তাঁর ওপর ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং মারধরের ফলে হাত-পা ভেঙে গিয়েছে। বর্তমানে তিনি মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। অভিযুক্ত অর্থলগ্নী সংস্থার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, সংস্থার ঋণ লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি রয়েছে। তবে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার বা স্বীকার করে সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।